Vivo S60: ৭২০০mAh ব্যাটারি, ১৪৪Hz ডিসপ্লে ও ৫০MP টেলিফটো ক্যামেরা
Vivo S60-এ রয়েছে ৭২০০mAh ব্যাটারি, ৯০W চার্জিং, ১৪৪Hz AMOLED ডিসপ্লে ও Snapdragon 8s Gen 3 চিপ। জেনে নিন ক্যামেরা, দাম ও বিস্তারিত।
বড় ব্যাটারির পাশাপাশি ক্যামেরা ও ডিসপ্লেকে গুরুত্ব দিয়ে চীনের বাজারে এসেছে Vivo S60। ফোনটিতে রয়েছে ৭২০০mAh ব্যাটারি, সর্বোচ্চ ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেটের AMOLED ডিসপ্লে এবং ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরা। সঙ্গে থাকছে Snapdragon 8s Gen 3 চিপসেট ও ৯০W ফাস্ট চার্জিং। চীনে এর প্রাথমিক দাম ৩ হাজার ৫৯৯ ইউয়ান।
২০২৬ সালের ২৯ মে ফোনটি উন্মোচন করা হয়। চীনে বিক্রি শুরু হয় ৩ জুন থেকে। একই সঙ্গে আসা Vitality Edition থেকে এটি আলাদা মডেল; বিশেষ করে প্রসেসর ও টেলিফটো ক্যামেরার ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
Vivo S60-এর প্রধান স্পেসিফিকেশন
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| ডিসপ্লে | ৬.৫৯ ইঞ্চি AMOLED |
| রেজল্যুশন | ২৭৫০ × ১২৬০ পিক্সেল |
| রিফ্রেশ রেট | সর্বোচ্চ ১৪৪Hz |
| প্রসেসর | Qualcomm Snapdragon 8s Gen 3 |
| র্যাম | ১২GB ও ১৬GB |
| স্টোরেজ | ২৫৬GB ও ৫১২GB |
| পেছনের ক্যামেরা | ৫০MP প্রধান, ৫০MP পেরিস্কোপ টেলিফটো ও ৮MP আলট্রাওয়াইড |
| সামনের ক্যামেরা | ৫০MP |
| ব্যাটারি | ৭২০০mAh |
| চার্জিং | সর্বোচ্চ ৯০W তারযুক্ত ফাস্ট চার্জিং |
| সফটওয়্যার | Android 16-ভিত্তিক OriginOS 6 |
| ফিঙ্গারপ্রিন্ট | ডিসপ্লের নিচে আলট্রাসনিক সেন্সর |
ফোনটির প্রধান ও পেরিস্কোপ টেলিফটো—দুই ক্যামেরাতেই অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন বা OIS রয়েছে। রংভেদে ওজন প্রায় ২০৫ থেকে ২০৭ গ্রাম এবং পুরুত্ব প্রায় ৭.৭৯ থেকে ৭.৯২ মিলিমিটার।
বড় ব্যাটারির সঙ্গে ৯০W ফাস্ট চার্জিং
ফোনটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ৭২০০mAh ব্যাটারি। দীর্ঘ সময় অনলাইন ক্লাস, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কিংবা দৈনন্দিন কাজের জন্য বড় ব্যাটারি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে একবার চার্জে কতক্ষণ চলবে, তা স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা, নেটওয়ার্ক, গেমিং ও ব্যবহারের ধরনের ওপর নির্ভর করবে।
এতে সর্বোচ্চ ৯০W FlashCharge সমর্থন রয়েছে। এখানে ৯০W হলো সর্বোচ্চ চার্জিং ক্ষমতা; চার্জের পরিমাণ, তাপমাত্রা ও ব্যবহারের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত ক্ষমতা ওঠানামা করবে। তাই নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল ছাড়া কত মিনিটে পুরো চার্জ হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
১৪৪Hz AMOLED ডিসপ্লেতে কী সুবিধা
৬.৫৯ ইঞ্চির পর্দায় রয়েছে ২৭৫০ × ১২৬০ পিক্সেল রেজল্যুশন। সর্বোচ্চ ১৪৪Hz রিফ্রেশ রেটের পাশাপাশি ৬০Hz, ৯০Hz ও ১২০Hz মোডও সমর্থিত। ফোনটির ডিসপ্লেতে HDR ও DCI-P3 রঙের পরিসর সমর্থনের কথাও জানানো হয়েছে।
উচ্চ রিফ্রেশ রেট স্ক্রলিং ও অ্যানিমেশনকে তুলনামূলক মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে। তবে ১৪৪Hz পর্দা থাকলেই সব গেম ১৪৪ ফ্রেমে চলবে না। সে ক্ষেত্রে গেমের সমর্থন, গ্রাফিকস সেটিংস ও ফোনের তাপমাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ।
৫০MP পেরিস্কোপ টেলিফটো ক্যামেরায় গুরুত্ব
পেছনে তিনটি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরার সঙ্গে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের পেরিস্কোপ টেলিফটো ও ৮ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড ক্যামেরা। সেলফি ও ভিডিও কলের জন্য সামনে থাকছে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। ফোনটি সর্বোচ্চ 4K ভিডিও ধারণ করতে পারে।
পেরিস্কোপ ক্যামেরা দূরের বিষয়কে ফ্রেমে আনার সুযোগ দেয়। পাশাপাশি প্রধান ও টেলিফটো ক্যামেরার OIS হাতের হালকা কাঁপুনির প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। তবে শুধু মেগাপিক্সেল বা জুমের সংখ্যা দিয়ে ছবির মান বিচার করা ঠিক হবে না; কম আলোয় বিস্তারিত, ত্বকের রং ও চলমান বিষয়ের ছবি কেমন আসে, তা বাস্তব পরীক্ষায় বোঝা যাবে।
Snapdragon 8s Gen 3 ও Android 16
পারফরম্যান্সের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির Snapdragon 8s Gen 3 চিপসেট। সঙ্গে রয়েছে Adreno 735 গ্রাফিকস প্রসেসর। সর্বোচ্চ ১৬GB র্যাম ও ৫১২GB স্টোরেজের সংস্করণ পাওয়া যায়।
সফটওয়্যার হিসেবে থাকছে Android 16-ভিত্তিক OriginOS 6। এ ছাড়া ফোনটিতে 5G, Wi-Fi 6, Bluetooth 5.4 এবং আলট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রয়েছে। ধুলা ও পানি প্রতিরোধে IP68 ও IP69 রেটিং থাকলেও একে সম্পূর্ণ পানিরোধী ধরে ব্যবহার করা উচিত নয়।
দাম কত, বাংলাদেশে কেনার আগে কী জানা দরকার
চীনে ফোনটির ঘোষিত দাম সংস্করণভেদে নিচে দেওয়া হলো।
| র্যাম ও স্টোরেজ | চীনে ঘোষিত দাম |
|---|---|
| ১২GB + ২৫৬GB | ৩,৫৯৯ ইউয়ান |
| ১২GB + ৫১২GB | ৩,৯৯৯ ইউয়ান |
| ১৬GB + ৫১২GB | ৪,৩৯৯ ইউয়ান |
এই দাম চীনের বাজারের জন্য প্রযোজ্য। সরাসরি মুদ্রা রূপান্তর করে বাংলাদেশের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না; আমদানি ব্যয়, কর ও বিক্রেতার মূল্য নির্ধারণের কারণে পার্থক্য হতে পারে।
বাংলাদেশে ফোনটির আনুষ্ঠানিক দাম নিশ্চিত করা যায়নি। যাচাই করা ভিভো বাংলাদেশের পণ্যতালিকাতেও মডেলটি পাওয়া যায়নি। তাই কোনো দোকানের মূল্যকে ব্র্যান্ডের আনুষ্ঠানিক দাম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
চীনা সংস্করণ কিনতে চাইলে Google Play, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং অ্যাপ, নোটিফিকেশন, বাংলা ভাষার সুবিধা ও স্থানীয় নেটওয়ার্কে ব্যবহার যাচাই করা ভালো। পাশাপাশি বিক্রেতার ওয়ারেন্টি এবং প্রস্তুতকারকের স্থানীয় ওয়ারেন্টি এক কি না, তা লিখিতভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বড় ব্যাটারি, উচ্চ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ও আলাদা টেলিফটো ক্যামেরার সমন্বয় ফোনটিকে বিবেচনায় রাখার কারণ তৈরি করেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য কেনার সিদ্ধান্তে হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি প্রকৃত দাম, সফটওয়্যারের ব্যবহারযোগ্যতা ও বিক্রয়োত্তর সেবাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।