অনলাইনে আসছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন: জালিয়াতি রোধে সরকারের নতুন পদক্ষেপ

জালিয়াতি ও বাল্যবিবাহ রোধে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অনলাইন নিবন্ধনের তথ্য যুক্ত হবে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের ডেটাবেসের সঙ্গে—ফলে মুহূর্তেই যাচাই করা যাবে কারও পারিবারিক স্ট্যাটাস।

Oct 3, 2026 - 19:44
 0  9
অনলাইনে আসছে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন: জালিয়াতি রোধে সরকারের নতুন পদক্ষেপ

দেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবার পুরোপুরি অনলাইনে আসছে। বৈবাহিক জালিয়াতি, তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহ রোধে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় বিয়ে ও তালাকের তথ্য যুক্ত থাকবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে—ফলে মাত্র এক ক্লিকেই জেনে নেওয়া যাবে যেকোনো ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে কাজীদের জন্য অনলাইন নিবন্ধন সফটওয়্যারের ওপর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনও করা হয়।

কীভাবে কাজ করবে অনলাইন নিবন্ধন?

নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিয়ে বা তালাক নিবন্ধনের সব তথ্য সরাসরি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জমা হবে। ধাপে ধাপে এই তথ্য সংযুক্ত হবে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে।

এর ফলে কেউ আগের বিয়ের কথা লুকিয়ে নতুন করে বিয়ে করার চেষ্টা করলে তা সহজেই ধরা পড়বে। কারণ সিস্টেমেই দেখা যাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বর্তমান পারিবারিক স্ট্যাটাস। বিবাহ নিবন্ধনের পর দেওয়া হবে কিউআর (QR) কোডসহ ডিজিটাল ম্যারেজ সার্টিফিকেট, যা অনলাইনে যাচাই করাও সম্ভব হবে।

জালিয়াতি রোধে যেসব সুবিধা মিলবে

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ডিজিটালাইজেশন একাধিক সামাজিক সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখবে:

  • একাধিক বিয়ে প্রতিরোধ: আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন বিয়ে করা কঠিন হয়ে পড়বে।
  • বাল্যবিবাহ রোধ: জন্ম নিবন্ধনের ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বয়স যাচাই সহজ হবে।
  • ডকুমেন্ট জালিয়াতি বন্ধ: ডিজিটাল সনদ ও QR কোড যাচাইয়ের কারণে জাল কাবিননামা বানানো প্রায় অসম্ভব হবে।
  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ থাকবে ডিজিটাল রেকর্ডে।

সাব-রেজিস্ট্রার সিন্ডিকেট ভাঙতে লটারি পদ্ধতি

শুধু নিবন্ধন ডিজিটাল করাই নয়, প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধেও পদক্ষেপ নিচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়। সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের প্রভাব ও সিন্ডিকেট ভাঙতে ঢাকায় খুব শিগগিরই লটারির মাধ্যমে পদায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। এতে একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে বদলিহীনভাবে থাকার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নাগরিকদের জন্য যা জরুরি

ইতিমধ্যে সরকারের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন পোর্টাল (marriage.gov.bd) কার্যক্রম চালু রয়েছে, যেখানে নিবন্ধন-সংক্রান্ত নিয়মাবলি ও সেবার তথ্য পাওয়া যায়। পুরো দেশে সেবাটি সম্প্রসারণের আগে কাজী ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের পরামর্শ—বিয়ে বা তালাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সবসময় সরকারি পোর্টাল ও অনুমোদিত কাজীর মাধ্যমেই কাজ করুন এবং অনলাইনে সনদ যাচাই করে নিন।

শেষ কথা

বিয়ে ও তালাকের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য-প্রযুক্তির এমন প্রয়োগ দেশের ডিজিটাল গভর্ন্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বৈবাহিক জালিয়াতি ও বাল্যবিবাহ কমবে, তেমনি সাধারণ মানুষও ঘরে বসেই পাবেন নির্ভরযোগ্য নিবন্ধন সেবা। তবে এর সফলতা নির্ভর করছে প্রশিক্ষণ, সচেতনতা এবং ধাপে ধাপে সারাদেশে সেবাটি পৌঁছে দেওয়ার ওপর। সামনের দিনগুলোতে এই ডিজিটাল রূপান্তর কীভাবে মানুষের জীবন সহজ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Shakil হ্যালো "ট্রিকবিডি" বাসী আমি শাকিল আহাম্মেদ। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। TrickBD আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।