জমির দলিল হারিয়ে গেলে নতুন কপি পাবেন যেভাবে: সার্টিফায়েড কপি বা অবিকল নকল তোলার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম

জমির দলিল হারিয়ে গেলে নতুন কপি পাবেন যেভাবে তা নিয়ে চিন্তিত? জেনে নিন সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে হারানো দলিলের সার্টিফায়েড কপি (Certified Copy) বা অবিকল নকল তোলার নিয়ম, ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ফরমে আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি এবং দলিল নম্বর ছাড়া তল্লাশির সহজ উপায়।

Oct 15, 2026 - 11:28
 0  7
জমির দলিল হারিয়ে গেলে নতুন কপি পাবেন যেভাবে: সার্টিফায়েড কপি বা অবিকল নকল তোলার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম

বাসা বদল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আগুনে পুড়ে যাওয়া কিংবা অসাবধানতার কারণে জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তবে বাংলাদেশের প্রচলিত ভূমি ও নিবন্ধন আইন অনুযায়ী মূল দলিল হারালেই জমির মালিকানা নষ্ট হয় না। জমিটি যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে (Sub-Registry Office) নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে সংরক্ষিত সরকারি বালাম বহি থেকে যথাযথ নিয়মে আবেদন করে দলিলের ‘সার্টিফায়েড কপি’ (Certified Copy) বা অবিকল নকল সংগ্রহ করা যায়। জমির দলিল হারিয়ে গেলে নতুন কপি পাবেন যেভাবে, কোন ফরমে কোথায় আবেদন করবেন, দলিলের নম্বর মনে না থাকলে কীভাবে খুঁজে বের করবেন এবং এতে কত টাকা খরচ হবে—তার বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য গাইড নিচে তুলে ধরা হলো।

মূল দলিল হারালে প্রথমেই যা করবেন: থানায় জিডি (GD) করা কি বাধ্যতামূলক?

মূল দলিল খুঁজে না পেলে প্রথম কাজ হলো ঠান্ডা মাথায় ঘরের ফাইলপত্র এবং জমির অন্যান্য কাগজপত্র (যেমন খতিয়ান, খাজনার দাখিলা বা পুরোনো ফটোকপি) এক জায়গায় গুছিয়ে নেওয়া।

সার্টিফায়েড কপি তোলার জন্য সব ক্ষেত্রে থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি (General Diary - GD) করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তবে দলিলটি চুরি হয়ে থাকলে, অন্য কারও হাতে চলে যাওয়ার সন্দেহ থাকলে কিংবা প্রতারক চক্র সেটি ব্যবহার করে ভুয়া বন্ধক বা জালিয়াতি করতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় একটি জিডি করে রাখা অত্যন্ত জরুরি। জিডিতে জমির মৌজা, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, দলিল নম্বর (জানা থাকলে) এবং নিবন্ধনের সাল উল্লেখ করে থানার সিলমোহরযুক্ত রিসিভড কপি (GD Reference Copy) নিজের কাছে সংরক্ষণ করুন। এতে ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি জটিলতায় প্রমাণ করা সহজ হবে যে মূল দলিলটি কবে হারিয়েছে।

হারানো জমির দলিলের কপি পেতে কোথায় আবেদন করবেন?

সাধারণ নিয়মে আপনার জমিটি যে উপজেলার বা থানার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে (Sub-Registry Office) রেজিস্ট্রি করা হয়েছিল, সেই অফিসেই সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করতে হয়। কারণ দলিল নিবন্ধনের সময় মূল বিষয়বস্তু সরকারি রেজিস্টার বা বালাম বহিতে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়।

তবে দলিলটি যদি অনেক বছরের পুরোনো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডরুম থেকে সেই বছরের বালাম বহি জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় মহাফেজখানা বা সদর রেকর্ডরুমে (District Record Room) স্থানান্তরিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার রেকর্ডরুমে খোঁজ নিয়ে সেখানেই নকলের আবেদন জমা দিতে হবে। ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা (Section 57 of the Registration Act, 1908) অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ সাপেক্ষে স্থাবর সম্পত্তির ১ নম্বর রেজিস্টার বহি ও সূচিবহি (Index Register) পরিদর্শন এবং প্রত্যয়িত নকল বা সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার আইনি বিধান রয়েছে।

জমির দলিল হারিয়ে গেলে নতুন কপি পাবেন যেভাবে (ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া)

হারানো দলিলের অবিকল নকল বা সার্টিফায়েড কপি (Certified Copy of Land Deed) উত্তোলনের দাপ্তরিক কাজটি মূলত ৫টি ধাপে সম্পন্ন হয়:

  • প্রাথমিক তথ্য ও ডকুমেন্ট একত্র করুন: আবেদনের আগে দলিলের নম্বর, নিবন্ধনের সাল, মৌজার নাম, দাগ ও খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ এবং দাতা (বিক্রেতা) ও গ্রহীতার (ক্রেতা) পূর্ণ নাম লিখে নিন। আগে করে রাখা কোনো ফটোকপি, ছবি বা স্ক্যান কপি থাকলে সেটিও সাথে রাখুন।
  • সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করুন: যে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটি নিবন্ধিত হয়েছিল সেখানে উপস্থিত হয়ে রেকর্ড কিপার বা সংশ্লিষ্ট শাখায় দলিলের সাল ও নম্বর জানিয়ে বালাম বহির অবস্থান জেনে নিন।
  • ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ফরমে তল্লাশি ও নকলের আবেদন করুন: রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা, ২০১৪-এর ১০৮ অনুচ্ছেদের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে ৩৬ নম্বর ফরমে রেকর্ড তল্লাশি ও পরিদর্শনের (Search and Inspection) আবেদন করতে হয়। তল্লাশির মাধ্যমে বালাম নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর নিশ্চিত হওয়ার পর ৩৭ নম্বর ফরমে দলিলের সার্টিফায়েড কপি বা অবিকল নকলের চূড়ান্ত আবেদন জমা দিতে হয়।
  • নির্ধারিত সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প পরিশোধ করুন: আবেদনপত্রের সাথে প্রযোজ্য কোর্ট ফি, তল্লাশি ফি (Search Fee) এবং নকল প্রস্তুতের সরকারি ফি জমা দিন। টাকা জমা দেওয়ার পর অবশ্যই দাপ্তরিক রসিদ ও ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ সংবলিত স্লিপ বুঝে নিন।
  • তথ্য মিলিয়ে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন: নির্ধারিত তারিখে অফিস থেকে সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়িত অনুলিপি (Certified Copy) সংগ্রহ করুন। নকলটি হাতে পাওয়ার পর সেখানে থাকা দলিল নম্বর, দাতা-গ্রহীতার নাম, মৌজা, দাগ ও খতিয়ান নম্বর এবং জমির চৌহদ্দি মূল রেকর্ডের সাথে নির্ভুলভাবে মিলছে কি না তা যাচাই করে নিন।

দলিলের নম্বর ও নিবন্ধনের সাল মনে না থাকলে খুঁজে বের করার কৌশল

অনেক সময় পুরোনো বা পৈতৃক জমির দলিল হারিয়ে গেলে দলিলের নম্বর কিংবা রেজিস্ট্রেশনের সাল মনে থাকে না। এমন পরিস্থিতিতেও হতাশ হওয়ার কারণ নেই; নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে দলিলের নম্বর উদ্ধার করা সম্ভব:

  • অনলাইনে ই-পর্চা ও নামজারি খতিয়ান যাচাই করুন: হারানো দলিলের জমিটি যদি আগে কখনো নামজারি বা মিউটেশন (e-Mutation) করা হয়ে থাকে, তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনলাইন পোর্টাল থেকে নামজারি খতিয়ান বা পর্চা চেক করুন। নামজারি খতিয়ানের মন্তব্য কলামে কিংবা উপজেলা ভূমি অফিসের (AC Land Office) খারিজ নথিতে মূল দলিলের নম্বর ও নিবন্ধনের তারিখ উল্লেখ থাকে।
  • সূচিবহি বা ইনডেক্স রেজিস্টার তল্লাশি করুন: নামজারি করা না থাকলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত ১ নম্বর ও ২ নম্বর সূচিবহি (Index Register) তল্লাশির আবেদন করতে হবে। ১ নম্বর সূচিবহিতে দাতা ও গ্রহীতার নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী এবং ২ নম্বর সূচিবহিতে মৌজার নাম ও জে.এল. (J.L.) নম্বর অনুযায়ী দলিলের তালিকা সাজানো থাকে।
  • সম্ভাব্য সাল ও জমির তফসিল ব্যবহার করুন: দলিলটি আনুমানিক কোন বছরগুলোতে (যেমন ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে) রেজিস্ট্রি হয়েছিল, সেই সম্ভাব্য সালগুলো উল্লেখ করে তল্লাশি ফি জমা দিলে রেকর্ডরুমের কর্মীরা সূচিবহি ঘেঁটে দলিলের প্রকৃত নম্বর, বালাম ও পৃষ্ঠা নম্বর বের করে দিতে পারেন।
  • সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক বা তল্লাশকারীর সহায়তা নিন: খুব পুরোনো দলিল বা ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের রেকর্ডের ক্ষেত্রে ভাষা ও লিপির জটিলতা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসের তালিকাভুক্ত অভিজ্ঞ দলিল লেখক বা তল্লাশকারীর সহায়তা নিলে রেকর্ডরুম থেকে তথ্য খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ হয়।

দলিলের নকল তুলতে কী কী তথ্য ও কাগজপত্র লাগে?

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করার সময় নিচের তথ্য ও কাগজপত্রগুলো সাথে রাখা প্রয়োজন:

প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র যে কারণে প্রয়োজন
আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) আবেদনকারীর পরিচয় ও বৈধ স্বার্থ যাচাই করার জন্য
দলিল নম্বর ও নিবন্ধনের সাল সরাসরি সংশ্লিষ্ট বছরের বালাম বহি ও পৃষ্ঠা শনাক্ত করার জন্য
দাতা ও গ্রহীতার পূর্ণ নাম ও পিতার নাম দলিল নম্বর না থাকলে ১ নং সূচিবহিতে (Index Register) নাম দিয়ে তল্লাশির জন্য
জমির তফসিল (মৌজা, জে.এল., খতিয়ান ও দাগ নম্বর) ২ নং সূচিবহিতে জমির অবস্থান ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য
পুরোনো ফটোকপি, বায়া দলিল বা নামজারি পর্চা রেকর্ডের তথ্য দ্রুত মিলিয়ে দেখা ও ভুল এড়ানোর জন্য
৩৬ ও ৩৭ নম্বর আবেদন ফরম ও নির্ধারিত ফি তল্লাশি ও প্রত্যয়িত নকল ইস্যুর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য

সার্টিফায়েড কপি তুলতে কত টাকা খরচ হয় ও কত দিন সময় লাগে?

দলিলের সার্টিফায়েড কপি তোলার খরচ সবার জন্য এক সমান হয় না। দলিলটি কত পৃষ্ঠার, কোন ভাষায় লেখা (বাংলা নাকি ইংরেজি), কত বছরের তল্লাশি করতে হচ্ছে এবং আবেদনটি সাধারণ নাকি জরুরি—তার ওপর মোট সরকারি খরচ নির্ভর করে।

খরচের খাত সরকারি ফি নির্ধারণের ভিত্তি প্রযোজ্য ক্ষেত্র
আবেদনপত্রের কোর্ট ফি (Court Fee) নির্ধারিত মূল্যের কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ফরমে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করতে হয়
তল্লাশি ও পরিদর্শন ফি (Search Fee) প্রতি বছরের সূচিবহি তল্লাশির জন্য নির্ধারিত হার দলিলের সাল বা নম্বর নিশ্চিত করতে যত বছরের সূচিবহি খুঁজতে হয়
নকল বা অনুলিপি প্রস্তুত ফি (Copying Fee) বাংলায় প্রতি ১০০ শব্দ এবং ইংরেজিতে প্রতি ১০০ শব্দের নির্ধারিত হার ও ফলিও স্ট্যাম্প দলিলের মোট শব্দ ও পৃষ্ঠাসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ধার্য হয়
জরুরি বা অগ্রাধিকার ফি (Urgent Fee) সাধারণ ফিসের অতিরিক্ত অগ্রাধিকার ফি সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্রুত নকল সংগ্রহের আবেদন করলে

আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নোটিশ বোর্ড বা নির্ধারিত কাউন্টার থেকে হালনাগাদ সরকারি ফি ও স্ট্যাম্পের হিসাব জেনে নিয়ে সরাসরি রসিদের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।

কত দিন সময় লাগে: দলিলের নম্বর ও নিবন্ধনের সাল জানা থাকলে এবং বালাম বহি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত থাকলে সাধারণত কয়েক কর্মদিবসের মধ্যেই সার্টিফায়েড কপি পাওয়া যায়। তবে জরুরি ফি (Urgent Fee) দিয়ে আবেদন করলে আরও কম সময়ে পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে, দলিল অনেক পুরোনো হলে, নম্বর জানা না থাকলে কিংবা জেলা রেকর্ডরুম থেকে ভলিউম তল্লাশির প্রয়োজন হলে যাচাই-বাছাইয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

সার্টিফায়েড কপি কি মূল দলিলের মতোই ব্যবহার করা যাবে?

হ্যাঁ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা জেলা রেকর্ডরুম থেকে সরকারি সিলমোহর ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ ইস্যু করা সার্টিফায়েড কপি (Certified Copy) একটি সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনগ্রাহ্য নথি। জমি বিক্রি বা হস্তান্তর, অনলাইনে নামজারি (Mutation), ব্যাংক ঋণ গ্রহণ কিংবা দেওয়ানি আদালতের মামলায় মূল দলিলের বিকল্প প্রমাণ হিসেবে এই প্রত্যয়িত অনুলিপি ব্যবহার করা যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, কেবল দলিলের সার্টিফায়েড কপি হাতে থাকলেই জমির নিরঙ্কুশ মালিকানা সংক্রান্ত সব প্রশ্নের সমাধান হয়ে যায় না। আইনিভাবে জমির মালিকানা অটুট রাখতে দলিলের ধারাবাহিকতা (বায়া দলিল), জরিপ খতিয়ান (CS, SA, RS বা BS Khatian), নিজ নামে নামজারি খতিয়ান, হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনার রসিদ (Land Development Tax) এবং জমিতে বাস্তব দখল থাকা অপরিহার্য। জমি নিয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা মালিকানা বিরোধ দেখা দিলে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যতে দলিল হারানো এড়াতে ৫টি ডিজিটাল ও ব্যবহারিক পরামর্শ

জমির মূল্যবান কাগজপত্র নিরাপদ রাখতে এবং ভবিষ্যতে ভোগান্তি এড়াতে এখন থেকেই কয়েকটি সচেতন পদক্ষেপ নিতে পারেন:

  • ডিজিটাল ক্লাউড ব্যাকআপ রাখুন: মূল দলিল বা সার্টিফায়েড কপি হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই ভালো মানের স্ক্যানার কিংবা স্মার্টফোনের ডকুমেন্ট স্ক্যানার অ্যাপ দিয়ে পরিষ্কার PDF ফাইল তৈরি করে Google Drive, ইমেইল বা পেনড্রাইভে সংরক্ষণ করুন।
  • দলিলের মূল তথ্যগুলো ডায়েরি ও নোট অ্যাপে লিখে রাখুন: দলিল নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নাম, বালাম নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর একটি আলাদা ডায়েরিতে এবং ফোনের নোট অ্যাপে লিখে রাখুন, যেন মূল কাগজ হারালেও ১ মিনিটেই তথ্য পাওয়া যায়।
  • মূল দলিল ও ফটোকপি আলাদা স্থানে রাখুন: মূল দলিলের ফাইল এবং ফটোকপির সেট কখনোই একই ব্যাগে বা একই ড্রয়ারে রাখবেন না; এতে একটি হারালেও অন্যটি দেখে দ্রুত নকলের আবেদন করা যায়।
  • ওয়াটারপ্রুফ ও ফায়ারপ্রুফ ফাইল ব্যবহার করুন: কাগজের দলিল পোকামাকড়, আর্দ্রতা ও আগুন থেকে বাঁচাতে উন্নত মানের ফাইল ফোল্ডারে ভরে নিরাপদ লকারে সংরক্ষণ করুন, তবে মূল দলিল কখনোই স্থায়ীভাবে লেমিনেটিং করবেন না।
  • অপরিচিত ব্যক্তি বা দালালের কাছে তথ্য দেবেন না: জমি কেনাবেচা বা নামজারির প্রয়োজন ছাড়া অপরিচিত কারও হাতে দলিলের কপি দেবেন না এবং যেকোনো প্রয়োজনে সরাসরি সরকারি ভূমি অফিস বা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যোগাযোগ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. জমির মূল দলিল হারিয়ে গেলে কি জমির মালিকানা বাতিল হয়ে যায়? না, শুধু মূল দলিল হারিয়ে গেলেই জমির মালিকানা চলে যায় না। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সরকারি বালাম বহিতে আপনার দলিলের রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে এবং সেখান থেকে সার্টিফায়েড কপি তুলে মালিকানার সব কাজ পরিচালনা করা যায়।

২. জমির দলিলের সার্টিফায়েড কপি কি ঘরে বসে অনলাইনে ডাউনলোড করা যায়? বর্তমানে অনলাইনে খতিয়ান (পর্চা) ও ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সব পুরোনো ও নিবন্ধিত দলিলের সার্টিফায়েড কপি সরাসরি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করার ব্যবস্থা এখনো সর্বত্র চালু হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা জেলা রেকর্ডরুমে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেই প্রত্যয়িত নকল সংগ্রহ করতে হয়।

৩. দলিলের নকল তোলার জন্য কি উকিল বা আইনজীবী নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক? না, কোনো আইনজীবী ছাড়াই জমির মালিক বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ৩৬ ও ৩৭ নম্বর ফরমে আবেদন করে সার্টিফায়েড কপি তুলতে পারেন। তবে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বা জটিল বিরোধ থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৪. উইল বা অছিয়তনামা দলিলের নকল কি যে কেউ তুলতে পারেন? ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী ১ নম্বর বহিতে থাকা সাধারণ জমি হস্তান্তরের দলিল নির্ধারিত ফি দিয়ে পরিদর্শন ও নকল নেওয়া গেলেও, ৩ নম্বর বহিতে থাকা উইল বা অছিয়ত দলিলের নকল কেবল দলিল সম্পাদনকারী নিজে (জীবিত থাকা অবস্থায়) এবং তাঁর মৃত্যুর পর উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দাবিদার বা উত্তরাধিকারীরা তুলতে পারেন।

সমাপনী কথা

জমির মূল দলিল হারিয়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয় হলেও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া জানা থাকলে অল্প সময়েই এর সমাধান করা সম্ভব। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কিংবা জেলা রেকর্ডরুমে যোগাযোগ করে তল্লাশি ও নকলের আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো ভোগান্তি এড়াতে আপনার পরিবারের সব জমির দলিল, খতিয়ান ও খাজনার রসিদের স্পষ্ট ডিজিটাল কপি (Digital Copy) আজই নিরাপদ ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষণ করে রাখুন।

Shakil হ্যালো "ট্রিকবিডি" বাসী আমি শাকিল আহাম্মেদ। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। TrickBD আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।