বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | Electricity Prepaid Meter All Useful Code

বাংলাদেশের সকল বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার প্রিপেইড মিটার কোড এক জায়গায়। BPDB, BREB, DESCO, DPDC, NESCO এবং WZPDCL এর সম্পূর্ণ কোড লিস্ট এবং ব্যবহার পদ্ধতি জানুন সহজ ভাষায়।

Feb 18, 2026 - 09:33
 0  649
বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | Electricity Prepaid Meter All Useful Code

প্রিপেইড মিটার কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান যুগে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে প্রিপেইড মিটার বা Prepaid Meter এর কল্যাণে। এটি এমন একটি ডিজিটাল ডিভাইস যা আপনার ঘরে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা সরাসরি দেখায় এবং আগে থেকে রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা Prepaid Electricity Meter ব্যবহার করছে।

প্রিপেইড মিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি যেকোনো সময় মিটারে কিছু নির্দিষ্ট কোড প্রবেশ করিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। যেমন – কত টাকা ব্যালেন্স আছে, কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে, মিটার নাম্বার কী, এবং আরও অনেক কিছু। এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশের সকল বিদ্যুৎ সংস্থার Prepaid Meter Code গুলো বিস্তারিত আলোচনা করব যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো

বাংলাদেশে মূলত ছয়টি প্রধান বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা রয়েছে যারা প্রিপেইড মিটার সিস্টেম ব্যবহার করে। এগুলো হলো –

BPDB (বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) - Bangladesh Power Development Board, BREB (বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) - Bangladesh Rural Electrification Board, DESCO (ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি) - Dhaka Electric Supply Company, DPDC (ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) - Dhaka Power Distribution Company, NESCO (নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি) - Northern Electricity Supply Company, এবং WZPDCL (পশ্চিম জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি) - West Zone Power Distribution Company Limited।

প্রতিটি সংস্থার মিটার কোড কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই আপনার এলাকার বিদ্যুৎ সংস্থা চিনে নিয়ে সঠিক কোড ব্যবহার করা জরুরি।

BPDB প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | BPDB Prepaid Meter All Useful Code

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা BPDB দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা। এই সংস্থার প্রিপেইড মিটার কোড গুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই বিভিন্ন তথ্য বের করতে পারবেন।

কোড নাম্বার কী জানা যাবে বিস্তারিত
801 ব্যালেন্স চেক মিটারে কত টাকা আছে তা জানা যাবে
807 ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স জরুরি ক্রেডিট কত আছে দেখা যাবে
804 সর্বশেষ রিচার্জ শেষবার কত টাকা রিচার্জ করেছেন
810 মোট ব্যবহৃত ইউনিট এ পর্যন্ত মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে
811 মোট রিচার্জ পরিমাণ শুরু থেকে মোট কত টাকা রিচার্জ করা হয়েছে
813 বর্তমান মাসের ব্যবহার এই মাসে কত ইউনিট খরচ হয়েছে
817 গতকালের খরচ গতকাল কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে
820 মিটার নাম্বার আপনার মিটারের ইউনিক নাম্বার দেখা যাবে
830 টোকেন ট্রান্সফার তথ্য শেষ টোকেন কবে এবং কত ইনপুট করা হয়েছে
870 ডিমান্ড চার্জ চাহিদা ভিত্তিক চার্জ দেখা যাবে
899 ভোল্টেজ তথ্য বর্তমান ভোল্টেজ কত তা জানা যাবে
889 কারেন্ট (অ্যাম্পিয়ার) বর্তমানে কত কারেন্ট প্রবাহিত হচ্ছে
816 গত মাসের খরচ আগের মাসে মোট কত ইউনিট খরচ হয়েছিল
819 দৈনিক গড় খরচ প্রতিদিন গড়ে কত ইউনিট খরচ হচ্ছে

কোড ইনপুট করার নিয়ম: আপনার মিটারের কিপ্যাডে উপরের যেকোনো কোড নাম্বার টাইপ করুন এবং Enter বা OK বাটন চাপুন। তাহলেই মিটারের স্ক্রিনে সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখা যাবে।

BREB প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | BREB Prepaid Meter All Useful Code

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বা BREB মূলত গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এই সংস্থার মিটার কোড সিস্টেম কিছুটা আলাদা তবে ব্যবহার করা একই রকম সহজ।

কোড তথ্য বিবরণ
801 বর্তমান ব্যালেন্স মিটারে কত টাকা জমা আছে
807 জরুরি ক্রেডিট ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কত
804 শেষ রিচার্জ সর্বশেষ রিচার্জের পরিমাণ
810 মোট ইউনিট শুরু থেকে মোট খরচ
813 চলতি মাসের ব্যবহার এই মাসে কত ইউনিট গেছে
820 মিটার আইডি মিটারের সিরিয়াল নাম্বার
899 সরবরাহ ভোল্টেজ বর্তমান ভোল্টেজ পরিমাপ

BREB মিটারের বিশেষত্ব: পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের মিটারগুলো সাধারণত Single Phase এবং কিছু ক্ষেত্রে Three Phase হয়ে থাকে। কোড সিস্টেম দুই ধরনের মিটারেই প্রায় একই রকম কাজ করে।

DESCO প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | DESCO Prepaid Meter All Useful Code

ঢাকার উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা DESCO এর প্রিপেইড মিটার সিস্টেম খুবই আধুনিক এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব। নিচের টেবিলে DESCO মিটার কোড দেওয়া হলো।

কোড নাম্বার ফাংশন বর্ণনা
00 মিটার নাম্বার ১১ ডিজিটের মিটার নাম্বার দেখায়
01 বর্তমান ব্যালেন্স কত টাকা বাকি আছে
02 জরুরি ক্রেডিট ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স স্ট্যাটাস
07 শেষ রিচার্জ তারিখ কবে শেষবার রিচার্জ করেছেন
31 মোট ক্রয়কৃত ইউনিট এ পর্যন্ত কত ইউনিট কিনেছেন
06 শেষ রিচার্জ পরিমাণ সর্বশেষ কত টাকা দিয়েছেন
52 মোট ব্যবহৃত ইউনিট শুরু থেকে মোট খরচ
89898686 সিস্টেম ইনফরমেশন মিটারের ফার্মওয়্যার ভার্সন

DESCO মিটারের সুবিধা: এই মিটারে LCD Display রয়েছে যা রাতেও সহজে পড়া যায়। এছাড়া SMS এর মাধ্যমেও ব্যালেন্স চেক করার সুবিধা আছে কিছু ক্ষেত্রে।

DPDC প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | DPDC Prepaid Meter All Useful Code

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা DPDC ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এদের প্রিপেইড মিটার কোড লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

কোড ব্যবহার তথ্য বিবরণ
00 মিটার সিরিয়াল নাম্বার আপনার মিটারের আইডি
01 বর্তমান ক্রেডিট মিটারে কত টাকা ব্যালেন্স আছে
02 ইমার্জেন্সি ক্রেডিট জরুরি ভিত্তিতে কত টাকা পাওয়া যাবে
06 শেষ টোকেন পরিমাণ সর্বশেষ কত টাকা রিচার্জ করেছেন
07 টোকেন ইনপুটের সময় কবে শেষবার রিচার্জ দিয়েছেন
31 মোট ক্রয় শুরু থেকে কত টাকার বিদ্যুৎ কিনেছেন
52 মোট খরচ এ পর্যন্ত কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে
89898686 টেকনিক্যাল ইনফো মিটারের সফটওয়্যার ভার্সন

DPDC এবং DESCO মিটারের মিল: লক্ষ করলে দেখবেন যে DPDC এবং DESCO এর প্রিপেইড মিটার কোড প্রায় একই রকম। কারণ উভয় সংস্থাই একই ধরনের মিটার সিস্টেম ব্যবহার করে।

NESCO প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | NESCO Prepaid Meter All Useful Code

উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান NESCO এর প্রিপেইড মিটার সিস্টেম কিছুটা ভিন্ন ধরনের। এখানে কোড সিস্টেম আরও সহজ করা হয়েছে।

প্রবেশ করুন দেখা যাবে ব্যাখ্যা
37 ব্যালেন্স বর্তমানে কত টাকা আছে মিটারে
39 জরুরি ক্রেডিট চেক ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স স্ট্যাটাস
19 কনজিউমার নাম্বার গ্রাহক সনাক্তকরণ নাম্বার
99999 মিটার রিসেট মিটারের কিছু সেটিংস রিসেট (সাবধানে ব্যবহার করুন)
413 চলতি মাস খরচ এই মাসে কত ইউনিট খরচ হয়েছে
414 আগের মাস খরচ গত মাসের মোট ব্যবহার
02 শেষ রিচার্জ সর্বশেষ কত টাকা দিয়েছেন
200 মোট ক্রয়কৃত ইউনিট শুরু থেকে মোট কত ইউনিট কিনেছেন
470 ভোল্টেজ মাপ বর্তমান সরবরাহ ভোল্টেজ

NESCO এলাকার বিশেষত্ব: উত্তরবঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় এখানকার মিটার সিস্টেম আরও সরলীকৃত করা হয়েছে। তবে সব ধরনের তথ্যই পাওয়া যায় খুব সহজে।

WZPDCL প্রিপেইড মিটারের সকল কোড | WZPDCL Prepaid Meter All Useful Code

পশ্চিম জোনের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি WZPDCL খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা এবং আশেপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। এদের মিটার কোড সিস্টেম DPDC এর মতোই।

কোড কাজ বিবরণ
00 মিটার নম্বর দেখুন ১১ ডিজিটের ইউনিক আইডি
01 বর্তমান ব্যালেন্স মিটারে কত টাকা জমা আছে
02 ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স জরুরি ক্রেডিট পরিমাণ
06 সর্বশেষ রিচার্জ শেষবার কত টাকা দিয়েছেন
07 রিচার্জের তারিখ কবে শেষবার টোকেন ইনপুট করেছেন
31 মোট কেনা ইউনিট শুরু থেকে কত ইউনিট ক্রয় করেছেন
52 মোট ব্যবহৃত ইউনিট এ পর্যন্ত কত ইউনিট খরচ হয়েছে
89898686 সিস্টেম ডেটা মিটারের ফার্মওয়্যার তথ্য

WZPDCL গ্রাহকদের জন্য টিপস: এই এলাকার মিটারগুলোতে প্রায়ই LED ডিসপ্লে থাকে যা খুবই স্পষ্ট এবং দীর্ঘস্থায়ী। কোড ইনপুট করার পর ৫-১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন তথ্য দেখার জন্য।

প্রিপেইড মিটারে কোড ইনপুট করার সঠিক পদ্ধতি

অনেকেই জানেন না কীভাবে সঠিকভাবে মিটার কোড ইনপুট করতে হয়। এখানে ধাপে ধাপে সহজ পদ্ধতি দেওয়া হলো।

প্রথম ধাপ: আপনার মিটারের সামনে দাঁড়ান এবং কিপ্যাড খুঁজে বের করুন। সাধারণত মিটারের নিচের দিকে ছোট বাটনগুলো থাকে।

দ্বিতীয় ধাপ: যে তথ্যটি জানতে চান, তার জন্য উপরের টেবিল থেকে সঠিক কোড নাম্বার খুঁজে নিন। যেমন ব্যালেন্স দেখতে চাইলে বেশিরভাগ মিটারে 801 অথবা 01 কোড।

তৃতীয় ধাপ: কিপ্যাডে সংখ্যাগুলো একের পর এক চাপুন। যেমন ৮, তারপর ০, তারপর ১।

চতুর্থ ধাপ: শেষে Enter, OK বা # বাটন চাপুন (মিটারের মডেলের উপর নির্ভর করে)।

পঞ্চম ধাপ: মিটারের LCD স্ক্রিনে তথ্যটি দেখা যাবে। কিছু মিটারে ৩-৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ টিপস: যদি কোড কাজ না করে, তাহলে মিটারের ব্র্যান্ড এবং মডেল চেক করুন। কিছু পুরনো মডেলে কোড সিস্টেম ভিন্ন হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার উপায়

প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা এখন অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। আপনি ঘরে বসেই মোবাইল ফোন দিয়ে রিচার্জ করতে পারবেন।

মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে রিচার্জ: বিকাশ, নগদ, রকেট – সব জনপ্রিয় Mobile Banking সেবা থেকেই বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করা যায়। শুধু আপনার মিটার নাম্বার (১১ বা ১৩ ডিজিট) দিয়ে এবং কত টাকা রিচার্জ করবেন তা লিখে দিলেই হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে একটি ২০ ডিজিটের টোকেন কোড SMS এ পাবেন।

টোকেন ইনপুট করা: SMS এ পাওয়া ২০ ডিজিটের সংখ্যাটি মিটারের কিপ্যাডে ইনপুট করুন এবং এন্টার চাপুন। সঙ্গে সঙ্গে আপনার মিটারে টাকা যুক্ত হয়ে যাবে এবং স্ক্রিনে নতুন ব্যালেন্স দেখা যাবে।

অনলাইন পোর্টাল: অনেক বিদ্যুৎ সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ আছে যেখান থেকেও রিচার্জ করা যায়। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং সেখানে মিটার নাম্বার যুক্ত করতে হবে।

ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন

ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা Emergency Credit হলো একটি বিশেষ সুবিধা যা প্রায় সব প্রিপেইড মিটারে থাকে। যখন আপনার মিটারের ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায় এবং রাত্রিতে বা ছুটির দিনে রিচার্জ করা সম্ভব হয় না, তখন এই জরুরি ক্রেডিট কাজে লাগে।

কীভাবে অ্যাক্টিভেট করবেন: বেশিরভাগ মিটারে 807 কোড দিয়ে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স চেক করা যায়। যদি কিছু পরিমাণ জরুরি ক্রেডিট থাকে (যেমন ৫০ বা ১০০ টাকা), তাহলে মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেটি ব্যবহার শুরু করবে যখন মূল ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাবে।

মনে রাখবেন: ইমার্জেন্সি ক্রেডিট শুধুমাত্র একবারই ব্যবহার করা যায়। পরবর্তী রিচার্জের সময় এই পরিমাণ কেটে নেওয়া হবে। তাই এটি শুধু জরুরি অবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।

প্রিপেইড মিটারের সাধারণ সমস্যা এবং সমাধান

অনেক সময় প্রিপেইড মিটার নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এখানে কিছু সাধারণ সমস্যা এবং তার সহজ সমাধান দেওয়া হলো।

মিটারে টোকেন নিচ্ছে না: এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রথমে নিশ্চিত করুন যে আপনি সঠিক মিটার নাম্বার দিয়ে রিচার্জ করেছেন। টোকেন কোডটি ভুল না করে সঠিকভাবে ইনপুট করুন। যদি তারপরও কাজ না করে, তাহলে মিটারটি একবার রিস্টার্ট দিয়ে নিন (মেইন সুইচ অফ করে ১ মিনিট পর আবার অন করুন)।

ব্যালেন্স দেখাচ্ছে না: কোড ইনপুট করার পর যদি স্ক্রিনে কিছু না দেখায়, তাহলে মিটারের ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে বেশিরভাগ আধুনিক মিটার সরাসরি লাইনের পাওয়ার থেকে চলে, তাই এই সমস্যা কম হয়।

ভুল রিডিং দেখাচ্ছে: কখনো কখনো মিটার ভুল ইউনিট গণনা করতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত আপনার বিদ্যুৎ অফিসে জানান। তারা টেকনিশিয়ান পাঠিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন।

মিটার বীপ শব্দ করছে: যখন ব্যালেন্স কম হয়ে যায় (সাধারণত ২০-৩০ টাকার নিচে), তখন মিটার সতর্কবাণী হিসেবে বীপ শব্দ করতে থাকে। এটি স্বাভাবিক এবং এর অর্থ আপনার শীঘ্রই রিচার্জ করা দরকার

প্রিপেইড মিটারের সুবিধা এবং অসুবিধা

সুবিধাসমূহ: প্রথমত, প্রিপেইড মিটারে আপনি সবসময় জানেন যে কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এবং কত টাকা বাকি আছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, মাস শেষে বিশাল বিল পরিশোধের ঝামেলা নেই। তৃতীয়ত, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই রিচার্জ করা যায়, কোনো ফিক্সড বিল নেই। চতুর্থত, মিটার রিডার আসার জন্য বাসায় থাকতে হয় না।

অসুবিধাসমূহ: প্রধান অসুবিধা হলো নিয়মিত রিচার্জ করতে হয়, নাহলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণে থাকলে বা ব্যস্ততায় রিচার্জ ভুলে গেলে সমস্যা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিলে নিজে সমাধান করা কঠিন হয়ে যায়। এছাড়া প্রাথমিকভাবে মিটার বসাতে খরচ বেশি লাগে।

কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবেন প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করে

প্রিপেইড মিটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি প্রতিদিন কতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা দেখতে পারেন। এই তথ্য ব্যবহার করে আপনি অনেক টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন।

নিয়মিত মনিটরিং: প্রতিদিন সকালে বা রাতে একবার মিটারের ব্যালেন্স চেক করুন। লক্ষ করুন কোন কোন দিন বেশি বিদ্যুৎ খরচ হয়। তারপর সেই দিনগুলোতে কোন ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বেশি ব্যবহার করেছিলেন তা খুঁজে বের করুন।

অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র বন্ধ রাখা: যখন ব্যবহার করছেন না, তখন এয়ারকন্ডিশনার, ফ্রিজ, ফ্যান, টিভি সব কিছু বন্ধ রাখুন। বিশেষ করে স্ট্যান্ডবাই মোডে রাখা যন্ত্রগুলোও বিদ্যুৎ খরচ করে। সম্পূর্ণভাবে সুইচ অফ করে দিন।

LED বাল্ব ব্যবহার: পুরনো ইনক্যান্ডেসেন্ট বাল্ব এর বদলে LED লাইট ব্যবহার করুন। এতে ৮০% পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।

ইউনিট হিসাব রাখা: মিটারে 813 বা অন্য কোড ব্যবহার করে দেখুন এই মাসে কত ইউনিট খরচ হয়েছে। যদি গত মাসের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে কারণ খুঁজে বের করে সংশোধন করুন।

প্রিপেইড মিটার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বাংলাদেশে প্রিপেইড মিটার ব্যবহার শুরু হয় প্রায় ২০১০ সালের দিকে। প্রথমে শুধু ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও এখন সারাদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এটি ব্যবহার করছেন।

মিটারের আয়ুষ্কাল: একটি ভালো মানের প্রিপেইড মিটার সাধারণত ১০-১৫ বছর সমস্যা ছাড়াই চলতে পারে। তবে এর জন্য সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি।

মিটার পরিবর্তন: যদি আপনার পুরনো এনালগ মিটার থেকে প্রিপেইড মিটারে পরিবর্তন করতে চান, তাহলে আপনার এলাকার বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করতে হবে। সাধারণত ১-২ মাসের মধ্যে নতুন মিটার বসানো হয়।

নিরাপত্তা: প্রিপেইড মিটার সাধারণত খুবই নিরাপদ। এতে ওভারলোড প্রটেকশন এবং শর্ট সার্কিট প্রটেকশন সিস্টেম থাকে। তবে মিটারে পানি পড়া বা আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন।

বিভিন্ন সংস্থার হেল্পলাইন নাম্বার

যদি আপনার প্রিপেইড মিটার নিয়ে কোনো সমস্যা হয় বা কোড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে নিচের হেল্পলাইন নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন।

বিদ্যুৎ সংস্থা হেল্পলাইন নাম্বার ইমেইল (যদি থাকে)
BPDB ০১৭১৭৭৮০০০০ info@bpdb.gov.bd
BREB ১৬৫৩০ info@reb.gov.bd
DESCO ০৯৬৬৬-৭১৭১৭১ customercare@desco.org.bd
DPDC ০১৯৬৩-৩৬৩৩৬৩ help@dpdc.gov.bd
NESCO ০১৭৩২-৯৯৮৮০০ info@nesco.gov.bd
WZPDCL ০৪১-২৭৬১৬০১ wzpdcl@wzpdcl.gov.bd

এই নাম্বারগুলোতে কল করলে আপনি বাংলা এবং ইংরেজি দুই ভাষাতেই সহায়তা পাবেন। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেবা পাওয়া যায়।

FAQ - প্রিপেইড মিটার সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স চেক করার কোড কত?

বেশিরভাগ বিদ্যুৎ সংস্থার প্রিপেইড মিটারে 801 অথবা 01 কোড দিয়ে ব্যালেন্স চেক করা যায়। BPDB, BREB এর জন্য 801 এবং DESCO, DPDC, WZPDCL এর জন্য 01 কোড ব্যবহার করুন। NESCO তে 37 কোড ব্যবহার করতে হয়।

২. প্রিপেইড মিটারের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কোড কত?

জরুরি ক্রেডিট বা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স দেখার জন্য BPDB এবং BREB এ 807 কোড ব্যবহার করুন। DESCO, DPDC, WZPDCL এর ক্ষেত্রে 02 কোড দিয়ে জরুরি ক্রেডিট স্ট্যাটাস দেখা যায়। NESCO তে 39 কোড প্রযোজ্য।

৩. প্রিপেইড মিটার নাম্বার কোড কত?

আপনার প্রিপেইড মিটারের সিরিয়াল নাম্বার বা মিটার আইডি দেখতে BPDB/BREB তে 820 কোড ব্যবহার করুন। DESCO, DPDC, NESCO, WZPDCL সকলের জন্য 00 (ডাবল জিরো) কোড দিয়ে ১১ ডিজিটের মিটার নাম্বার দেখা যাবে। এই নাম্বারটি রিচার্জ করার সময় দরকার হয়।

৪. প্রিপেইড মিটারে সর্বশেষ রিচার্জ দেখার কোড কত?

সর্বশেষ কত টাকা রিচার্জ করেছেন তা দেখতে BPDB/BREB তে 804 কোড ব্যবহার করুন। DESCO, DPDC, WZPDCL এর মিটারে 06 কোড দিয়ে শেষ রিচার্জ পরিমাণ দেখা যায়। NESCO তে 02 কোড প্রযোজ্য। এছাড়া রিচার্জ করার তারিখ দেখতে 07 কোড ব্যবহার করা যায় কিছু মিটারে।

৫. প্রিপেইড মিটারে মোট ইউনিট খরচ দেখার কোড কত?

মিটার বসানোর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে তা দেখতে BPDB/BREB তে 810 কোড দিন। DESCO, DPDC, WZPDCL এর জন্য 52 কোড ব্যবহার করুন। NESCO তে 200 কোড দিয়ে মোট ক্রয়কৃত ইউনিট দেখা যায়।

৬. চলতি মাসের বিদ্যুৎ খরচ দেখার কোড কত?

এই মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে তা জানতে BPDB/BREB এর মিটারে 813 কোড ইনপুট করুন। NESCO তে 413 কোড ব্যবহার করা হয়। এই তথ্য থেকে আপনি হিসাব করতে পারবেন মাস শেষে আনুমানিক কত টাকা খরচ হবে এবং সেই অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

৭. প্রিপেইড মিটারে ভোল্টেজ চেক করার কোড কত?

বর্তমানে আপনার বাসায় কত ভোল্টেজ বিদ্যুৎ আসছে তা দেখতে BPDB/BREB তে 899 কোড ব্যবহার করুন। NESCO তে 470 কোড প্রযোজ্য। স্বাভাবিক ভোল্টেজ থাকা উচিত ২২০-২৪০ ভোল্টের মধ্যে। যদি এর চেয়ে বেশি বা কম থাকে তাহলে বিদ্যুৎ অফিসে জানান।

৮. প্রিপেইড মিটারে টোকেন ইনপুট করার নিয়ম কী?

বিকাশ, নগদ বা রকেট থেকে রিচার্জ করার পর আপনি ২০ ডিজিটের একটি টোকেন কোড পাবেন SMS এ। এই সম্পূর্ণ ২০ ডিজিটটি আপনার মিটারের কিপ্যাডে একদম সঠিকভাবে ইনপুট করুন। শেষে Enter বা OK বাটন চাপুন। মিটারের স্ক্রিনে "Accepted" বা "Success" মেসেজ দেখা যাবে এবং নতুন ব্যালেন্স দেখানো হবে। যদি "Rejected" বা "Invalid" দেখায়, তাহলে আবার সাবধানে কোডটি চেক করে ইনপুট করুন।

শেষ কথা

বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটার আধুনিক যুগের একটি দুর্দান্ত প্রযুক্তি যা বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষণ করা অনেক সহজ করে দিয়েছে। উপরে দেওয়া সকল প্রিপেইড মিটার কোড ব্যবহার করে আপনি যেকোনো সময় আপনার বিদ্যুৎ খরচের হিসাব জানতে পারবেন। মনে রাখবেন, প্রতিটি বিদ্যুৎ সংস্থার কোড কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই আপনার এলাকার সংস্থা অনুযায়ী সঠিক কোড ব্যবহার করুন।

নিয়মিত মিটার মনিটরিং করুন, সময়মতো রিচার্জ করুন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার মাসিক খরচ কমবে এবং পরিবেশও রক্ষা পাবে। যদি কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে আপনার বিদ্যুৎ সংস্থার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।

আশা করি এই বিস্তারিত গাইড আপনার প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে সাহায্য করবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হোন এবং স্মার্ট ভোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন।

Shakil হ্যালো "ট্রিকবিডি" বাসী আমি শাকিল আহাম্মেদ। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। TrickBD আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।