রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ বাংলাদেশ | সেহরি ও ইফতার সময়সূচী, নিয়ত ও দোয়া
রমজান ২০২৬ বাংলাদেশের সম্পূর্ণ ৩০ দিনের সেহরি ও ইফতার সময়সূচী, রোজার নিয়ত, ইফতারের দোয়া এবং শবে কদরের তথ্য সহ বিস্তারিত ক্যালেন্ডার। ঢাকা সহ সারাদেশের জন্য সঠিক Ramadan Calendar 2026 BD পান।
রমজান ২০২৬ কবে শুরু হবে বাংলাদেশে?
পবিত্র রমজান মাস ২০২৬ বাংলাদেশে সম্ভাব্য ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজান শুরুর তারিখ নির্ধারিত হবে। রমজান মাস মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র সময়, যেখানে রোজা পালন, কোরআন তেলাওয়াত এবং ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়।
এই বছর রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ বাংলাদেশ অনুযায়ী পুরো মাস জুড়ে মুসলিম উম্মাহ তাকওয়া ও আত্মসংযমের শিক্ষা গ্রহণ করবে। রমজান শেষ হবে সম্ভাব্য ২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে এবং পরদিন অর্থাৎ ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
রমজান ২০২৬ বাংলাদেশ: গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রমজান শুরু | ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
| রমজান শেষ | ২০ মার্চ ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
| ঈদুল ফিতর | ২১ মার্চ ২০২৬ (সম্ভাব্য) |
| মোট রোজা | ৩০ দিন |
| সময়সূচী ভিত্তি | ঢাকা কেন্দ্রিক (অন্যান্য জেলায় ±১-২ মিনিট পার্থক্য) |
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেহরি ও ইফতারের সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ থেকে ৩ মিনিটের পার্থক্য থাকতে পারে।
রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬: সম্পূর্ণ ৩০ দিনের সেহরি ও ইফতার সময়সূচী
নিচে Ramadan 2026 Bangladesh এর সম্পূর্ণ সেহরি ও ইফতার টাইমটেবিল প্রদান করা হলো। এই সময়সূচী ঢাকা শহরের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি অন্য কোনো জেলায় থাকেন, তাহলে স্থানীয় মসজিদ বা ইসলামিক সেন্টার থেকে সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন।
| রোজা | তারিখ (২০২৬) | বার | সেহরি শেষ | ইফতার |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:১৪ AM | ৫:৫৫ PM |
| ২ | ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:১৩ AM | ৫:৫৬ PM |
| ৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:১২ AM | ৫:৫৭ PM |
| ৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ৫:১২ AM | ৫:৫৭ PM |
| ৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ৫:১১ AM | ৫:৫৮ PM |
| ৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ৫:১০ AM | ৫:৫৮ PM |
| ৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ৫:০৯ AM | ৫:৫৯ PM |
| ৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ৫:০৮ AM | ৫:৫৯ PM |
| ৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ৫:০৭ AM | ৬:০০ PM |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ৫:০৬ AM | ৬:০০ PM |
| ১১ | ১ মার্চ | রবিবার | ৫:০৫ AM | ৬:০১ PM |
| ১২ | ২ মার্চ | সোমবার | ৫:০৪ AM | ৬:০১ PM |
| ১৩ | ৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫:০৩ AM | ৬:০২ PM |
| ১৪ | ৪ মার্চ | বুধবার | ৫:০২ AM | ৬:০২ PM |
| ১৫ | ৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৫:০১ AM | ৬:০৩ PM |
| ১৬ | ৬ মার্চ | শুক্রবার | ৫:০০ AM | ৬:০৩ PM |
| ১৭ | ৭ মার্চ | শনিবার | ৪:৫৯ AM | ৬:০৪ PM |
| ১৮ | ৮ মার্চ | রবিবার | ৪:৫৮ AM | ৬:০৪ PM |
| ১৯ | ৯ মার্চ | সোমবার | ৪:৫৭ AM | ৬:০৫ PM |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৫৬ AM | ৬:০৫ PM |
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ৪:৫৫ AM | ৬:০৬ PM |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৫৪ AM | ৬:০৬ PM |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৫৩ AM | ৬:০৭ PM |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ৪:৫২ AM | ৬:০৭ PM |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ৪:৫১ AM | ৬:০৮ PM |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ৪:৫০ AM | ৬:০৮ PM |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪:৪৯ AM | ৬:০৯ PM |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ৪:৪৮ AM | ৬:০৯ PM |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪:৪৭ AM | ৬:১০ PM |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ৪:৪৬ AM | ৬:১০ PM |
এই Sehri and Iftar timetable Bangladesh অনুযায়ী আপনি সহজেই প্রতিদিনের রোজা পালন করতে পারবেন। প্রতিটি রোজার জন্য সেহরি শেষ সময় এবং ইফতারের সঠিক সময় জানা অত্যন্ত জরুরি, যাতে রোজা সহিহভাবে আদায় হয়।
রোজার নিয়ত: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
রোজার নিয়ত করা সুন্নত এবং এটি মনে মনে করাই যথেষ্ট। তবে অনেকেই নিয়তের আরবি ও বাংলা উচ্চারণ জানতে চান। এখানে Rojar Niyat সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হলো।
| ভাষা | নিয়ত |
|---|---|
| আরবি | نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَرْضًا لِلّٰهِ تَعَالٰى |
| বাংলা উচ্চারণ | নাওয়াইতু আন আসূমা গাদান মিন শাহরি রমাদানা ফারদ্বাল লিল্লাহি তাআলা। |
| অর্থ | আমি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। |
মনে রাখবেন, নিয়ত মনে মনে করলেই রোজা সহিহ হয়, মুখে উচ্চারণ করা ফরজ নয়। তবে নিয়তের শব্দগুলো জানা থাকলে মনে দৃঢ়তা আসে এবং রোজা পালনে আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।
ইফতারের দোয়া: আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ
ইফতার করার সময় দোয়া পড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইফতারের সময় বিশেষ দোয়া পড়তেন। এখানে Iftar Dua সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো।
| ভাষা | দোয়া |
|---|---|
| আরবি | اللّٰهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ |
| বাংলা উচ্চারণ | আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু। |
| অর্থ | হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করলাম। |
ইফতারের সময় খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করা সুন্নত। এরপর এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। বিশেষভাবে ইফতারের পূর্বমুহূর্ত দোয়া কবুলের অন্যতম সময়, তাই এই সময়ে বেশি বেশি দোয়া করুন।
শবে কদর কবে? লাইলাতুল কদরের রাত চেনার উপায়
শবে কদর বা Lailatul Qadr হলো হাজার মাসের চেয়ে উত্তম একটি রাত। পবিত্র কোরআনে এই রাতের মর্যাদা বর্ণনা করে পূর্ণ একটি সূরা নাজিল হয়েছে। রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে হাদিসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
| রমজানের রাত | তারিখ (২০২৬) | বার |
|---|---|---|
| ২১তম রাত | ১১ মার্চ | বুধবার |
| ২৩তম রাত | ১৩ মার্চ | শুক্রবার |
| ২৫তম রাত | ১৫ মার্চ | রবিবার |
| ২৭তম রাত | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার |
| ২৯তম রাত | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার |
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করো। অনেক আলেমদের মতে, ২৭তম রাত শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এই রাতে বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, তাওবা-ইস্তিগফার এবং দোয়া করা উচিত।
রমজান মাসে গুরুত্বপূর্ণ আমল ও করণীয়
রমজান মাস শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এই পবিত্র মাসে যেসব আমল করা জরুরি, তা নিচে বর্ণনা করা হলো।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য অবশ্য কর্তব্য। রমজান মাসে নামাজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষত তারাবীহ নামাজ রমজানের বিশেষ সুন্নত, যা এশার নামাজের পর আদায় করা হয়। তারাবীহ নামাজে সম্পূর্ণ কোরআন খতম করার রেওয়াজ রয়েছে।
কোরআন তেলাওয়াত রমজানের অন্যতম প্রধান আমল। এই মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই প্রতিদিন নিয়মিত কোরআন পড়া এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কোরআনের প্রতিটি অক্ষর পড়ার জন্য দশগুণ সওয়াব পাওয়া যায়, আর রমজান মাসে এই সওয়াব আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
দান-সদকা ও যাকাত প্রদান রমজানের একটি বিশেষ আমল। রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা, ইফতার করানো এবং যাকাত আদায় করা এই মাসে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
মিথ্যা, গীবত ও অশ্লীলতা পরিহার করা রমজানের মূল শিক্ষা। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকলেই রোজা পূর্ণ হয় না। জিহবা, চোখ, কান সব কিছু সংযমে রাখতে হবে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করতে পারল না, তার পানাহার পরিত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।
ইফতারের আগে দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোজাদারের দোয়া ইফতারের পূর্বমুহূর্তে কবুল হয়। তাই এই বিশেষ সময়ে নিজের, পরিবারের এবং উম্মাহর জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন।
রমজান ২০২৬ এর জন্য প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?
রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ বাংলাদেশ অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করুন এখন থেকেই। শাবান মাস থেকেই রমজানের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। নফল রোজা রাখা, নিয়মিত নামাজ আদায় এবং কোরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা রমজানে ইবাদতে সাহায্য করবে।
Ramadan Schedule 2026 এর সময়সূচী আগে থেকে জেনে নিয়ে একটি Ramadan Planner তৈরি করুন। প্রতিদিন কতটুকু কোরআন পড়বেন, কোন সময় তারাবীহ নামাজ আদায় করবেন, কখন পরিবারের সাথে ইফতার করবেন—এসব পরিকল্পনা করে রাখুন। এতে রমজান মাস আরও সুন্দর ও ফলপ্রসূভাবে কাটবে।
রমজানের আগে বাজার করা, প্রয়োজনীয় খাবার সংগ্রহ এবং গরিবদের সাহায্যের জন্য বাজেট তৈরি করুন। বিশেষত সেহরির জন্য পুষ্টিকর খাবার এবং ইফতারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করুন। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
বিভিন্ন শহরের জন্য রমজান টাইমিং ২০২৬
বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে Sehri Iftar time কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নিচে প্রধান শহরগুলোর সেহরি ও ইফতারের সময়ের পার্থক্য উল্লেখ করা হলো।
ঢাকা: উপরের টেবিলে প্রদত্ত সময়সূচী ঢাকার জন্য প্রযোজ্য।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে সেহরি ও ইফতারের সময় ঢাকার চেয়ে প্রায় ১-২ মিনিট আগে হয়।
সিলেট: সিলেট অঞ্চলে সেহরি ও ইফতার ঢাকার সময়ের কাছাকাছি, তবে ১ মিনিট পার্থক্য থাকতে পারে।
রাজশাহী: রাজশাহীতে সেহরি ঢাকার চেয়ে ১-২ মিনিট পরে এবং ইফতার ১-২ মিনিট পরে হয়।
খুলনা: খুলনা অঞ্চলে সেহরি ও ইফতার ঢাকার প্রায় কাছাকাছি সময়ে হয়।
বরিশাল: বরিশালে সেহরি ও ইফতারের সময় ঢাকার সাথে প্রায় সমান।
প্রতিটি এলাকার জন্য স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা অনুসরণ করা সবচেয়ে উত্তম। অনেক Ramadan app এবং ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনার এলাকার সঠিক সময় পাবেন।
রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ ডাউনলোড ও প্রিন্ট
অনেকেই রমজান ক্যালেন্ডার PDF ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ঘরে বা অফিসে টাঙিয়ে রাখতে চান। এতে প্রতিদিনের সেহরি ও ইফতারের সময় মনে রাখা সহজ হয়। আপনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অথবা বিভিন্ন ইসলামিক ওয়েবসাইট থেকে Ramadan Calendar 2026 Bangladesh PDF ডাউনলোড করতে পারবেন।
এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ রয়েছে যেমন Al Quran, Muslim Pro, Athan ইত্যাদি, যেখানে রমজান ক্যালেন্ডার, নামাজের সময়সূচী এবং কিবলার দিক সহ নানা ফিচার পাওয়া যায়।
FAQ: রমজান ২০২৬ নিয়ে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. রমজান ২০২৬ কত তারিখে শুরু হবে?
রমজান ২০২৬ সম্ভাব্য ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শুরু হবে। তবে এটি চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে নিশ্চিত হবে।
২. ঈদুল ফিতর ২০২৬ কবে?
ঈদুল ফিতর ২০২৬ সম্ভাব্য ২১ মার্চ ২০২৬ তারিখে পালিত হবে।
৩. রোজার নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করা জরুরি?
না, রোজার নিয়ত মনে মনে করলেই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা ফরজ নয়, তবে সুন্নত।
৪. সেহরি না খেলে কি রোজা হবে?
হ্যাঁ, সেহরি না খেলেও রোজা হবে। তবে সেহরি খাওয়া সুন্নত এবং এতে বরকত রয়েছে।
৫. শবে কদর কোন রাতে?
শবে কদর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) অনুসন্ধান করতে হয়। অনেকের মতে ২৭তম রাত শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
৬. ইফতার কিসে করা সুন্নত?
ইফতার খেজুর বা পানি দিয়ে করা সুন্নত। খেজুর না থাকলে যেকোনো মিষ্টি জাতীয় খাবার বা পানি দিয়ে ইফতার করা যায়।
৭. রমজানে কোন কাজগুলো বেশি করা উচিত?
রমজানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, তারাবীহ নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা, তাওবা-ইস্তিগফার এবং দোয়া বেশি বেশি করা উচিত।
৮. রোজা ভাঙার কারণ কী কী?
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা, ধূমপান, ইনজেকশন নেওয়া (পুষ্টি সমৃদ্ধ), স্বামী-স্ত্রী সহবাস এবং ইচ্ছাকৃত বমি করা রোজা ভাঙার কারণ।
উপসংহার
রমজান ক্যালেন্ডার ২০২৬ বাংলাদেশ অনুসরণ করে পুরো মাস সুন্দরভাবে রোজা পালন করুন। এই পবিত্র মাসে সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময় মেনে, রোজার নিয়ত সঠিকভাবে করে এবং ইফতারের দোয়া পড়ে রোজা রাখুন। শবে কদরের রাতে বিশেষভাবে ইবাদত করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
রমজান মাস শুধু রোজা রাখার মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। এই মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করুন, নামাজে মনোযোগী হোন, দান-সদকা করুন এবং মিথ্যা ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের বরকত লাভ করার তাওফিক দান করুন। রমজান মুবারক।