ঘরে বসেই মোবাইল দিয়ে অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করার নিয়ম

আপনার নামে কত জমি আছে, কোথায় কোথায় আছে—অনলাইনে জানবেন যেভাবে। ঘরে বসে মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে নাম, দাগ নম্বর ও এনআইডি ব্যবহার করে জমির খতিয়ান ও মালিকানা যাচাইয়ের সম্পূর্ণ নিয়ম জানুন।

Oct 15, 2026 - 10:50
 0  5
ঘরে বসেই মোবাইল দিয়ে অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করার নিয়ম

নিজের নামে কিংবা পৈতৃক সূত্রে ঠিক কতটুকু জমি রয়েছে এবং সেগুলো কোন কোন মৌজায় অবস্থিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই স্পষ্ট ধারণা থাকে না। আগে এই তথ্য জানতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা সেটেলমেন্ট অফিসে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। তবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে জমির রেকর্ড খুঁজে বের করা যায়। আপনার নামে কত জমি আছে, কোথায় কোথায় আছে—অনলাইনে জানবেন যেভাবে, তা বুঝতে হলে সরকারের ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ও খতিয়ান অনুসন্ধান সেবার সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অনলাইন ডেটাবেসে জমির মালিকের নাম, পিতা বা মাতার নাম, দাগ নম্বর (Plot/Dag Number) এবং খতিয়ান নম্বর (Khatian Number) ব্যবহার করে যেকোনো মৌজার জমির তথ্য যাচাই (Land Ownership Verification) করা যায়। পাশাপাশি অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পোর্টালে নাগরিক নিবন্ধন করা থাকলে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID Card) বিপরীতে যুক্ত থাকা সব জমির হোল্ডিং ও খতিয়ানের হিসাব এক জায়গাতেই দেখা সম্ভব।

তবে শুরুতেই একটি কারিগরি বিষয় পরিষ্কার রাখা দরকার—অনলাইনে শুধু নিজের নাম বা এনআইডি নম্বর লিখে সার্চ দিলেই এক ক্লিকে সারা দেশের সব জেলার জমির তালিকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে না। জমির তথ্যগুলো মূলত জেলা, উপজেলা ও মৌজাভিত্তিক জরিপের রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে। তাই সঠিক নিয়মে কয়েকটি সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করে ধাপে ধাপে নিজের বা পূর্বপুরুষের জমির অবস্থান ও পরিমাণ বের করতে হয়।

অনলাইনে নিজের নামে জমি আছে কি না দেখার ধাপসমূহ (Online Khatian Search)

কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় আপনার বা আপনার বাবা-দাদার নামে জমি রেকর্ড হয়েছে কি না, তা দেখতে সরকারি ই-পর্চা (eporcha.gov.bd) অথবা ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড ও ম্যাপ সিস্টেম (dlrms.land.gov.bd) ব্যবহার করতে হবে। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই এই তথ্য খুঁজে পাবেন:

  • সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন: আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল পোর্টাল eporcha.gov.bd, dlrms.land.gov.bd অথবা settlement.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • খতিয়ানের ধরন ও এলাকা নির্বাচন করুন: হোমপেজ থেকে ‘সার্ভে খতিয়ান’ (Survey Khatian) অথবা ‘নামজারি খতিয়ান’ (Mutation Khatian) অপশনটি বেছে নিন। এরপর ধারাবাহিকভাবে আপনার জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, জরিপের ধরন (যেমন: সিএস, এসএ, আরএস, বিএস বা বিআরএস) এবং নির্দিষ্ট মৌজা (জেএল নম্বরসহ) নির্বাচন করুন।
  • মালিকের নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজুন: খতিয়ান নম্বর জানা থাকলে সরাসরি তা বসিয়ে ‘খুঁজুন’ বাটনে ট্যাপ করুন। আর খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলে ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ (Advanced Search) অপশনে গিয়ে মালিকের নাম বাংলায় লিখুন বা জমির দাগ নম্বর প্রদান করে সার্চ করুন।
  • পিতা-মাতার নাম মিলিয়ে রেকর্ড নিশ্চিত করুন: একই মৌজায় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকা খুবই স্বাভাবিক। তাই সার্চ রেজাল্টে আসা তালিকা থেকে পিতা, মাতা বা স্বামীর নাম এবং ঠিকানা মিলিয়ে আপনার সঠিক খতিয়ানটিতে ডাবল-ক্লিক করুন। সেখানে ওই খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ, দাগ সংখ্যা এবং মালিকের অংশ (Share) স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।
  • প্রয়োজনে ডিজিটাল পর্চা সংগ্রহ করুন: শুধু তথ্য দেখার জন্য কোনো ফি লাগে না। তবে আইনি বা দাপ্তরিক কাজের জন্য খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি (Certified Copy of Porcha) বা মৌজা ম্যাপ (Mouza Map) প্রয়োজন হলে অনলাইনেই জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ফি পরিশোধ করলে কিউআর কোড (QR Code) সংবলিত অনলাইন কপি ডাউনলোড বা ডাকযোগে সংগ্রহ করা যায়।

আপনার নামে কোথায় কোথায় জমি আছে জানবেন যেভাবে

যদি একাধিক জেলা, উপজেলা বা ভিন্ন ভিন্ন মৌজায় আপনার বা আপনার পরিবারের জমি থাকার সম্ভাবনা থাকে, তবে একটিমাত্র মৌজা সার্চ করে সব জমির খোঁজ পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিটি মৌজা আলাদাভাবে নির্বাচন করে খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হবে। কাজটি সহজ ও নির্ভুল করতে সরকারের চারটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর:

সরকারি ডিজিটাল সেবা ওয়েবসাইট ঠিকানা যেসব তথ্য ও সুবিধা পাওয়া যাবে
ই-পর্চা ও ডিজিটাল রেকর্ড (DLRMS) eporcha.gov.bd / dlrms.land.gov.bd নাম, দাগ ও খতিয়ান নম্বর দিয়ে সার্ভে ও নামজারি খতিয়ান অনুসন্ধান এবং পর্চা ও মৌজা ম্যাপের আবেদন
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর settlement.gov.bd বিভিন্ন পর্যায়ের ভূমি জরিপ (CS, SA, RS, BS) এবং চলমান ডিজিটাল জরিপের খতিয়ান যাচাই
ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম (LD Tax) ldtax.gov.bd এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত প্রোফাইলে যুক্ত সব মৌজার হোল্ডিং, খতিয়ান ও খাজনার দাখিলা একসঙ্গে দেখা
ই-নামজারি সিস্টেম (e-Mutation) mutation.land.gov.bd জমি কেনা বা ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়ার পর নামজারি বা খারিজ খতিয়ানের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই

বিশেষ করে আপনি যদি আগে কখনো অনলাইনে জমির খাজনা (Land Development Tax) দিয়ে থাকেন, তবে ldtax.gov.bd পোর্টালে লগইন করলে আপনার নাগরিক প্রোফাইলে কোন কোন জেলার কোন মৌজায় কতটুকু জমি যুক্ত আছে, তার তালিকা ড্যাশবোর্ডেই দেখতে পাবেন। তবে যেসব জমি এখনো আপনার অনলাইন হোল্ডিং প্রোফাইলে যুক্ত করা হয়নি, সেগুলো দেখতে আগের নিয়মে মৌজা ধরে ই-পর্চা পোর্টালে অনুসন্ধান করতে হবে।

নিজের নামে মোট কতটুকু জমি আছে তা হিসাব করার সঠিক নিয়ম

অনলাইনে খতিয়ান খুঁজে পাওয়ার পর অনেকেই একটি সাধারণ ভুল করেন—খতিয়ানে লেখা ‘মোট জমি’র পরিমাণকে নিজের একক জমি ধরে নেন। অথচ অধিকাংশ পৈতৃক বা সার্ভে খতিয়ান যৌথ মালিকানার (Joint Khatian) হয়ে থাকে। নিজের নামে প্রকৃতপক্ষে মোট কত শতক বা কাঠা জমি আছে, তা নিখুঁতভাবে বের করতে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করুন:

  • সব কাগজপত্র ও তথ্য একত্র করুন: নিজের কাছে থাকা পুরোনো দলিল, পর্চা, নামজারির কপি এবং খাজনার দাখিলাগুলো এক জায়গায় রেখে প্রতিটি জমির মৌজা, জেএল নম্বর, খতিয়ান ও দাগ নম্বর নোট করে নিন।
  • খতিয়ানে নিজের ‘অংশ’ বা ‘হিস্যা’ দেখে নিন: অনলাইনে খতিয়ান ওপেন করার পর মালিকের নামের ডান পাশে ‘অংশ’ বা ‘হিস্যা’ (যেমন: ০.৫০, ০.৩৩৩৩ বা আনা-গন্ডা হিসাব) লেখা থাকে। খতিয়ানের মোট জমির সাথে আপনার নামের পাশের অংশটুকু গুণ করলেই আপনার প্রকৃত জমির পরিমাণ বেরিয়ে আসবে।
  • গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে মিলিয়ে নিন: ধরুন, একটি যৌথ খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ লেখা আছে ৬০ শতক (Decimal)। সেখানে আপনার নামের পাশে অংশ লেখা আছে ০.২৫ (অর্থাৎ চার ভাগের এক ভাগ বা এক-চতুর্থাংশ)। তাহলে ওই খতিয়ানে আপনার নিজের জমি হলো (৬০ × ০.২৫) = ১৫ শতক।
  • সব জমির একক অভিন্ন রেখে যোগ করুন: বিভিন্ন এলাকায় জমি পরিমাপের স্থানীয় একক (যেমন: কাঠা, বিঘা, কানি বা গন্ডা) ভিন্ন হতে পারে। হিসাবের সুবিধার্থে সব মৌজার জমিকে সরকারি আদর্শ একক ‘শতক’ বা ‘ডেসিমেল’-এ রূপান্তর করে যোগ করলে আপনার নামে মোট কতটুকু জমি আছে, তার নির্ভুল হিসাব পেয়ে যাবেন।

অনলাইনে নিজের নামে জমি খুঁজে না পেলে করণীয় কী?

ওয়েবসাইটে নিজের নাম লিখে সার্চ দেওয়ার পর যদি কোনো ফলাফল না আসে, তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। অনলাইনে নাম না দেখানোর মানেই এই নয় যে আপনার জমি নেই। মূলত পাঁচটি কারণে এমন হতে পারে:

  • উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির নামজারি না হওয়া: বাবা, মা বা দাদার রেখে যাওয়া জমি ওয়ারিশ সূত্রে পেলেও আপনি যদি এখনো নিজের নামে ই-নামজারি (Mutation) না করে থাকেন, তবে সরকারি রেকর্ডে জমিটি পূর্বপুরুষের নামেই থেকে গেছে। এ ক্ষেত্রে বাবা বা দাদার নাম দিয়ে সার্চ দিলে রেকর্ডটি খুঁজে পাবেন।
  • নামের বানানে তারতম্য থাকা: পুরোনো জরিপের খতিয়ানে থাকা নামের বানানের সাথে বর্তমান স্মার্ট এনআইডি কার্ডের বানানের পার্থক্য থাকলে (যেমন: ‘মোঃ’, ‘মো.’ বা ‘মোহাম্মদ’ কিংবা যুক্তাক্ষরের পার্থক্য) সরাসরি নাম দিয়ে সার্চ করলে ফলাফল না-ও আসতে পারে। এমন ক্ষেত্রে শুধু দাগ নম্বর বা পিতার নাম দিয়ে খোঁজা ভালো।
  • ডিজিটাল ডেটাবেসে তথ্য আপলোড না হওয়া: দেশের কিছু এলাকার নির্দিষ্ট কিছু জরিপের রেকর্ড এখনো পুরোপুরি অনলাইন সার্ভারে অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদ না হওয়ায় সেগুলো ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত না-ও হতে পারে।
  • ভুল জরিপ বা মৌজা নির্বাচন করা: জমিটি আরএস (RS) রেকর্ডে আছে নাকি বিএস/বিআরএস (BS/BRS) রেকর্ডে আছে, তা সঠিক সিলেক্ট না করলে তথ্য পাওয়া যায় না। তাই একটি জরিপে না পেলে পাশের অন্য জরিপ অপশনগুলো পরিবর্তন করে দেখা উচিত।
  • সরাসরি সহায়তা নেওয়ার উপায়: অনলাইনে কোনোভাবেই রেকর্ড খুঁজে না পেলে পুরোনো দলিল বা দাখিলা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস (তহশিল অফিস) বা উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land Office) যোগাযোগ করুন। এ ছাড়া ঘরে বসে যেকোনো পরামর্শ পেতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৪ ঘণ্টার সরকারি হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে কল করতে পারেন।

খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিকানা শতভাগ নিশ্চিত?

জমির অবস্থান ও পরিমাণ জানার জন্য খতিয়ান বা পর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল হলেও আইনের দৃষ্টিতে শুধু খতিয়ানে নাম থাকাই চূড়ান্ত মালিকানার একমাত্র প্রমাণ নয়। খতিয়ান মূলত স্বত্বের রেকর্ড (Record of Rights) ও কর আদায়ের ভিত্তি নির্দেশ করে।

একটি জমির নিরঙ্কুশ মালিকানা নিশ্চিত করতে খতিয়ানের তথ্যের পাশাপাশি জমির রেজিস্ট্রিকৃত মূল দলিল (Registered Deed), পূর্ববর্তী মালিকানার ধারাবাহিকতা বা ভায়া দলিল (Chain of Title), প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ, হালনাগাদ নামজারি (Mutation) এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা—সবগুলো নথি একে অপরের সাথে মিলতে হবে। বিশেষ করে জমি কেনাবেচা বা পারিবারিক বণ্টনের আগে শুধু অনলাইন পর্চার ওপর নির্ভর না করে মূল দলিল ও বাস্তব দখল যাচাই করা অপরিহার্য।

অনলাইনে জমির তথ্য যাচাইয়ের সময় জরুরি সতর্কতা

ডিজিটাল ভূমিসেবা ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রতারণা এড়াতে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন:

  • শুধু সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন: নিজের এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার আগে ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে সরকারি ডোমেইন (.gov.bd) আছে কি না তা নিশ্চিত করুন।
  • অপরিচিত মাধ্যম বা দালাল থেকে দূরে থাকুন: ফেসবুক পেজ, ভুয়া অ্যাপ বা অপরিচিত কোনো ব্যক্তিকে অনলাইনে জমি চেক করার কথা বলে নিজের দলিল, খতিয়ান বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি দেবেন না।
  • খসড়া ও চূড়ান্ত রেকর্ডের পার্থক্য বুঝুন: চলমান জরিপের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রদর্শিত কিছু তথ্য খসড়া পর্যায়ের হতে পারে। যেকোনো আর্থিক লেনদেন বা আইনি পদক্ষেপের আগে কিউআর কোড স্ক্যান করে ডিজিটাল পর্চার সত্যতা যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে ভূমি অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

১. শুধু এনআইডি (NID) নম্বর দিয়ে কি সারা বাংলাদেশে আমার নামে কত জমি আছে দেখা যাবে? না, শুধু এনআইডি নম্বর দিয়ে এক ক্লিকে দেশের সব জেলার জমির তালিকা দেখার উন্মুক্ত সার্চ ব্যবস্থা নেই। তবে ldtax.gov.bd পোর্টালে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত আপনার নাগরিক প্রোফাইলে যেসব জমির হোল্ডিং যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা একসঙ্গে দেখতে পাবেন। বাকি জমির জন্য মৌজা ও জরিপ সিলেক্ট করে নাম বা দাগ নম্বর দিয়ে খুঁজতে হবে।

২. অনলাইনে জমির খতিয়ান ও মালিকের নাম দেখতে কি কোনো টাকা লাগে? না, সরকারি ওয়েবসাইটে (eporcha.gov.bd বা dlrms.land.gov.bd) নাম, দাগ বা খতিয়ান নম্বর দিয়ে জমির তথ্য এবং মালিকানার অংশ দেখা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কেবল খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি বা মৌজা ম্যাপ ডাউনলোড করতে চাইলে নির্ধারিত সরকারি ফি প্রযোজ্য হবে।

৩. দাগ বা খতিয়ান নম্বর মনে না থাকলে কীভাবে জমি খুঁজব? দাগ বা খতিয়ান নম্বর জানা না থাকলেও সমস্যা নেই। আপনার জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করার পর ‘অধিকতর অনুসন্ধান’ অপশনে গিয়ে মালিকের নাম এবং পিতা বা স্বামীর নাম বাংলায় লিখে সার্চ দিলেই সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও দাগ নম্বর বের হয়ে আসবে।

৪. অনলাইনে ডাউনলোড করা ডিজিটাল পর্চা কি আইনি কাজে গ্রহণযোগ্য? হ্যাঁ, সরকারি পোর্টাল থেকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ডাউনলোড করা কিউআর কোড (QR Code) সংবলিত ডিজিটাল রেকর্ড বা ই-পর্চা সম্পূর্ণ বৈধ এবং নামজারি, ব্যাংক ঋণ বা আদালতের কাজে গ্রহণযোগ্য। যে কেউ কিউআর কোডটি স্ক্যান করে সরাসরি সরকারি সার্ভার থেকে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেন।

শেষ কথা

ডিজিটাল ভূমিসেবা চালু হওয়ার ফলে নিজের কিংবা পরিবারের জমির হিসাব রাখা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে। শুধু একটি ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ই-পর্চা, অনলাইন খাজনার পোর্টাল এবং নিজের কাছে থাকা মূল দলিল ও নামজারির কাগজপত্র একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই আপনার নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য চিত্র পেয়ে যাবেন। পারিবারিক সম্পত্তির সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে আজই পরিবারের সব জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বরগুলো অনলাইনে যাচাই করে একটি সুশৃঙ্খল তালিকা তৈরি করে রাখতে পারেন।

Shakil হ্যালো "ট্রিকবিডি" বাসী আমি শাকিল আহাম্মেদ। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। TrickBD আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।