বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬ | কত টাকা জরিমানা দিতে হয়?

বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা ২০২৬ — লাইসেন্স ছাড়া, হেলমেট ছাড়া, সিগন্যাল ভাঙা সহ সকল অপরাধের সর্বশেষ আপডেট জরিমানার তালিকা ও আইনি বিধান জানুন।

Mar 13, 2026 - 14:19
 0  193
বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬ | কত টাকা জরিমানা দিতে হয়?

তুমি কি জানো, বাংলাদেশের রাস্তায় বাইক চালাতে গিয়ে ছোট একটা ভুল করলে হাজার হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হতে পারে? শুধু তাই নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি কারাদণ্ডও হতে পারে! অনেকেই জানেন না যে বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা ঠিক কত টাকা। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী সম্পূর্ণ তথ্য সহজ ভাষায় জানাবো, যাতে তুমি বা তোমার পরিবার যেকোনো সময় সচেতন থাকতে পারো।

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ — বাইকের জন্য কী বলা আছে? (Road Transport Act 2018)

বাংলাদেশ সরকার সড়কে শৃঙ্খলা আনতে এবং দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছে। এই আইনটি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা BRTA (বিআরটিএ)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনটিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ট্যাক্স টোকেন— এই চারটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেকোনো মোটরসাইকেল চালকের কাছে এই চারটি ডকুমেন্ট হালনাগাদ থাকা আবশ্যক। না থাকলে ট্রাফিক মামলা হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী জরিমানা দিতে হবে।

অনেক বাইক চালক ভাবেন ট্রাফিক পুলিশ শুধু বড় শহরে চেক করে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এখন সারা দেশেই ভিডিও ক্যামেরা এবং মোবাইল কোর্ট-এর মাধ্যমে নিয়মিত ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাই নিজেকে এবং পরিবারকে নিরাপদ রাখতে হলে traffic rules Bangladesh সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা তালিকা ২০২৬

নিচে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী motorcycle traffic fine Bangladesh 2026-এর সম্পূর্ণ তালিকা একটি সহজ টেবিলে দেওয়া হলো। এটি দেখলেই বুঝতে পারবে কোন অপরাধে কত টাকা জরিমানা হয়।

আইনের ধারা ট্রাফিক অপরাধ সর্বোচ্চ জরিমানা অতিরিক্ত শাস্তি
ধারা ৬৬ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালানো ২৫,০০০ টাকা ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৬৯ নকল বা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার ৫,০০,০০০ টাকা ৬ মাস থেকে ২ বছর কারাদণ্ড
ধারা ৭২ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো ৫০,০০০ টাকা ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৭৩ জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার ৫,০০,০০০ টাকা ৬ মাস থেকে ২ বছর কারাদণ্ড
ধারা ৭৪ মালিকানা পরিবর্তনে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন না করা ৫,০০০ টাকা ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৭৫ ফিটনেস সনদ ছাড়া বা মেয়াদউত্তীর্ণ ফিটনেসে চলাচল ২৫,০০০ টাকা ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৭৬ ট্যাক্স টোকেন ছাড়া বা মেয়াদউত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেনে চলাচল ১০,০০০ টাকা গাড়ি জব্দ হতে পারে
ধারা ৮৪ অননুমোদিত বাইক মডিফিকেশন (Modification) ৩,০০,০০০ টাকা ১ থেকে ৩ বছর কারাদণ্ড
ধারা ৮৫ ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা ১০,০০০ টাকা ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৮৭ গতিসীমা (Speed Limit) লঙ্ঘন ১০,০০০ টাকা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড + ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন
ধারা ৮৮ হাইড্রোলিক হর্ণ (Hydraulic Horn) ব্যবহার ১০,০০০ টাকা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড + ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন
ধারা ৯২ হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো বা আরোহী ১০,০০০ টাকা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড + ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন
ধারা ৯২ উল্টো পথে বাইক চালানো (Wrong Side Driving) ১০,০০০ টাকা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৯২ মোটরসাইকেলে ৩ জন আরোহণ করা ১০,০০০ টাকা ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড
ধারা ৯২ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার (Mobile Phone Use) ২৫,০০০ টাকা ১ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড + ১ দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন
ধারা ১০০ পুনরায় একই অপরাধ করা (Repeat Offence) দ্বিগুণ জরিমানা দ্বিগুণ কারাদণ্ড

⚠️ দ্রষ্টব্য: উপরের জরিমানার তালিকা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী এবং ২০২৬ সালে প্রযোজ্য। আইনে সংশোধন হলে জরিমানার পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে।

লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা? (Fine for Driving Without License)

এটি বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া ট্রাফিক অপরাধগুলোর একটি। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License) ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড একসাথে হতে পারে। অনেকে মনে করেন শুধু জরিমানা দিলেই হয়, কিন্তু বিচারকের ইচ্ছামতো কারাদণ্ডও দেওয়া হতে পারে। তাই বাইক চালানোর আগে অবশ্যই BRTA-থেকে বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, কেউ যদি নকল বা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স (Fake License) ব্যবহার করেন, তাহলে ধারা ৬৯ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা এবং ২ বছর কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে! এটি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা? (Helmet Fine Bangladesh 2026)

বাংলাদেশে হেলমেট না পরে বাইক চালানো একটি অত্যন্ত সাধারণ দৃশ্য হলেও এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৯২ অনুযায়ী, মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী যেকোনো একজনের হেলমেট না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা এবং ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি চালকের দোষসূচক পয়েন্ট (Demerit Point) থেকে ১ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট কাটা গেলে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে কী হয়? (Unregistered Motorcycle Fine)

অনেকেই নতুন বাইক কিনে রেজিস্ট্রেশন না করেই রাস্তায় নামেন, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ধারা ৭২ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন (Registration) ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি বাইকটি সাথে সাথে জব্দ করা হতে পারে। এটি বাইকের ট্রাফিক মামলায় সবচেয়ে বড় জরিমানাগুলোর একটি।

ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙলে ও স্পিড লিমিট অতিক্রম করলে জরিমানা

রাস্তার ট্রাফিক সিগন্যাল (Traffic Signal) অমান্য করা মানে শুধু নিজের নয়, পুরো রাস্তার সবার জীবন বিপদে ফেলা। ধারা ৮৫ অনুযায়ী সিগন্যাল ভাঙলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং ১ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। একইভাবে, ধারা ৮৭ অনুযায়ী গতিসীমা (Speed Limit) লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং ৩ মাসের কারাদণ্ড, সাথে ১টি দোষসূচক পয়েন্ট কর্তন করা হবে। মনে রাখবে, বাংলাদেশে সাধারণ সড়কে মোটরসাইকেলের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার/ঘণ্টা

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বাইক চালানোর শাস্তি (Mobile Phone While Driving)

বর্তমান সময়ে বাইক চালাতে চালাতে মোবাইল ফোনে কথা বলা বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা একটি মারাত্মক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৯২-এর দ্বিতীয় অংশ অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা জরিমানা এবং ১ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। এই অপরাধের জন্যও দোষসূচক পয়েন্ট কাটা হয়। ফোনে কথা বলতে হলে অবশ্যই বাইক থামিয়ে কথা বলুন।

বাইক মডিফিকেশন করলে কি মামলা হয়? (Bike Modification Fine)

অনেক বাইক প্রেমী তাদের মোটরসাইকেলকে আরো আকর্ষণীয় করতে বিভিন্নভাবে মডিফাই (Modify) করেন। কিন্তু BRTA-অনুমোদিত নির্দেশনার বাইরে যেকোনো অননুমোদিত বাইক মডিফিকেশন করা আইনত দণ্ডনীয়। ধারা ৮৪ অনুযায়ী, এই অপরাধে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা জরিমানা এবং ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে! তাই যেকোনো পরিবর্তনের আগে বিআরটিএ-র অনুমোদন নেওয়া জরুরি।

ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন না থাকলে কী হয়?

বাইকের ফিটনেস সার্টিফিকেট (Fitness Certificate) মেয়াদউত্তীর্ণ হলে বা না থাকলে ধারা ৭৫ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। একইভাবে ট্যাক্স টোকেন (Tax Token) না থাকলে বা মেয়াদ শেষ হলে ধারা ৭৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা করা হবে এবং গাড়ি জব্দ হতে পারে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এই কাগজপত্রগুলো নবায়ন করা মোটরসাইকেল মালিকের দায়িত্ব।

ট্রাফিক মামলা কীভাবে হয় এবং কীভাবে জরিমানা পরিশোধ করবে?

বর্তমানে বাংলাদেশে ট্রাফিক মামলা (Traffic Case) দুটি প্রধান উপায়ে হয়। প্রথমত, সরাসরি রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বা ভ্রাম্যমাণ আদালত (Mobile Court) থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা করতে পারে। দ্বিতীয়ত, অনেক শহরে এখন সিসিটিভি ক্যামেরা (CCTV Camera) এবং ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে গাড়ির মালিকের ঠিকানায় জরিমানার নোটিশ পাঠানো হয়।

জরিমানা পরিশোধ করার জন্য কয়েকটি উপায় আছে। সবচেয়ে সহজ হলো সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের কাছে বা BRTA সার্কেল অফিসে গিয়ে পরিশোধ করা। এছাড়া BRTA-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং BRTA Service মোবাইল অ্যাপ-এর মাধ্যমে অনলাইনে জরিমানা (Online Fine Payment) পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং (bKash, Nagad)-এর মাধ্যমেও পরিশোধ করা যায়। সময়মতো জরিমানা পরিশোধ না করলে গাড়ির কাগজপত্র আটকে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে বাইক নবায়নে সমস্যা হতে পারে।

বারবার একই অপরাধ করলে কী হয়? (Repeat Offence)

অনেকে মনে করেন একবার জরিমানা দিলেই দায় শেষ। কিন্তু সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ১০০ অনুযায়ী, কেউ যদি আগে শাস্তি পেয়ে থাকেন এবং পুনরায় একই অপরাধ (Repeat Offence) করেন, তাহলে তাকে প্রথমবারের তুলনায় দ্বিগুণ জরিমানা এবং দ্বিগুণ কারাদণ্ড দেওয়া হবে। এই বিধান চালু থাকায় বারবার নিয়ম ভাঙা অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

কেন ট্রাফিক আইন মানা জরুরি? (Why Traffic Rules Matter)

শুধু জরিমানা এড়ানোর জন্য নয়, ট্রাফিক আইন মানা মানে নিজের জীবন এবং অন্যদের জীবন রক্ষা করা। বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, যার বড় একটা অংশ ঘটে শুধুমাত্র ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে। একটি হেলমেট তোমার মাথাকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, একটি বৈধ লাইসেন্স তোমার পরিচয় নিশ্চিত করে, আর সিগন্যাল মানা মানে সবার জন্য নিরাপদ রাস্তা।

তাই প্রতিটি বাইক চালকের উচিত রাস্তায় বের হওয়ার আগে নিশ্চিত করা যে — হেলমেট পরা হয়েছে কিনা, ড্রাইভিং লাইসেন্স সঙ্গে আছে কিনা, বাইকের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ আছে কিনা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল ও গতিসীমা মানা হচ্ছে কিনা। এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলো শুধু জরিমানা বাঁচাবে না, বরং তোমার জীবনও বাঁচাবে।

সংক্ষিপ্ত জরিমানা সারসংক্ষেপ — এক নজরে (Quick Reference Table)

অপরাধের ধরন সর্বোচ্চ জরিমানা (টাকা) কারাদণ্ড
লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালানো ২৫,০০০ ৬ মাস
জাল লাইসেন্স ব্যবহার ৫,০০,০০০ ২ বছর
রেজিস্ট্রেশন ছাড়া বাইক ৫০,০০০ ৬ মাস
হেলমেট ছাড়া চালানো ১০,০০০ ৩ মাস
ট্রাফিক সিগন্যাল ভাঙা ১০,০০০ ১ মাস
স্পিড লিমিট অতিক্রম ১০,০০০ ৩ মাস
মোবাইল ফোন ব্যবহার ২৫,০০০ ১ মাস
বাইক মডিফিকেশন ৩,০০,০০০ ৩ বছর
ফিটনেস ছাড়া চালানো ২৫,০০০ ৬ মাস
ট্যাক্স টোকেন ছাড়া ১০,০০০ প্রযোজ্য নয়
উল্টো পথে চালানো ১০,০০০ ৩ মাস
মোটরসাইকেলে ৩ জন ১০,০০০ ৩ মাস

শেষ কথা — নিরাপদ থাকো, সচেতন থাকো (Stay Safe, Stay Legal)

বাংলাদেশে বাইকের ট্রাফিক মামলার জরিমানা শুধু কয়েকশো টাকা নয়, সঠিক নিয়ম না মানলে হাজার হাজার এমনকি লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ (Road Transport Act 2018) এই বিষয়গুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। তাই প্রতিদিন বাইক চালানোর আগে একবার মনে করো — লাইসেন্স আছে তো? হেলমেট পরা হয়েছে তো? বাইকের কাগজপত্র ঠিক আছে তো? এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর "হ্যাঁ" হলে তুমি নিরাপদ এবং আইনের চোখেও নির্ভীক।

FAQ — সচরাচর জিজ্ঞাসা (Frequently Asked Questions)

১. বাংলাদেশে হেলমেট ছাড়া বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা হয়?

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ধারা ৯২ অনুযায়ী, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে বা পেছনের আরোহীর হেলমেট না থাকলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা জরিমানা এবং ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

২. ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালালে কত টাকা জরিমানা?

ধারা ৬৬ অনুযায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা অথবা ৬ মাস কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৩. বাইকের রেজিস্ট্রেশন না থাকলে কত জরিমানা হয়?

ধারা ৭২ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা জরিমানা এবং ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এটি বাইকের সর্বোচ্চ জরিমানাগুলোর একটি।

৪. ট্রাফিক জরিমানা কীভাবে অনলাইনে পরিশোধ করব?

BRTA (বিআরটিএ)-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা BRTA Service মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে ট্রাফিক জরিমানা পরিশোধ করা সম্ভব। এছাড়া সরাসরি BRTA সার্কেল অফিস বা ট্রাফিক পুলিশের কাছেও পরিশোধ করা যায়।

৫. বাইক চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কত জরিমানা?

ধারা ৯২ অনুযায়ী, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা জরিমানা এবং ১ মাস কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে ১টি দোষসূচক পয়েন্ট কাটা যাবে।

৬. বাইক মডিফাই করলে কি মামলা হতে পারে?

হ্যাঁ, অননুমোদিত বাইক মডিফিকেশন করলে ধারা ৮৪ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১ থেকে ৩ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। BRTA-র অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা যাবে না।

৭. একই ট্রাফিক অপরাধ বারবার করলে কী শাস্তি হয়?

ধারা ১০০ অনুযায়ী, আগে শাস্তি পাওয়ার পরেও পুনরায় একই অপরাধ (Repeat Offence) করলে দ্বিগুণ জরিমানা এবং দ্বিগুণ কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

৮. সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ কি সারা বাংলাদেশে প্রযোজ্য?

হ্যাঁ, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ (Road Transport Act 2018) সারা বাংলাদেশে প্রযোজ্য। শহর বা গ্রাম নির্বিশেষে প্রতিটি সড়কে মোটরসাইকেল চালকদের এই আইন মেনে চলতে হবে।

Shakil Hi, i am shakil