ট্রেড লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ও রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬ | প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও ফি

ট্রেড লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ও রিনিউ করার সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬। জানুন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি, ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া এবং সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ উভয় এলাকার জন্য নিয়ম।

Feb 20, 2026 - 14:56
 0  12
ট্রেড লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ও রিনিউ করার নিয়ম ২০২৬ | প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ও ফি

বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের ব্যবসা শুরু করতে ট্রেড লাইসেন্স থাকা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। এটি ছাড়া কোনো ব্যবসা বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। এখন ডিজিটাল যুগে সরকার অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স আবেদনরিনিউ করার সুবিধা চালু করেছে। এতে ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে খুব সহজে লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। অফিসে দৌড়াদৌড়ি বা লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এখন আর নেই।

এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি স্ট্রাকচার, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ উভয় এলাকার জন্য নিয়মকানুন বিস্তারিত তুলে ধরছি। চলুন জেনে নিই কীভাবে খুব সহজভাবে ট্রেড লাইসেন্স online application করতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স কী এবং কেন প্রয়োজন?

ট্রেড লাইসেন্স হলো একটি সরকারি অনুমতিপত্র যা প্রমাণ করে যে আপনার ব্যবসা আইনি এবং বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এই লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় কারখানা, অফিস, রেস্তোরাঁ, ফার্মেসি সব ধরনের ব্যবসায়েই trade license বাধ্যতামূলক।

এই লাইসেন্স থাকলে ব্যবসায়িক লেনদেনে সুবিধা হয়, ব্যাংক লোন পেতে সহজ হয়, সরকারি টেন্ডারে অংশ নেওয়া যায় এবং আইনি সমস্যা এড়ানো যায়। লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত এক বছর এবং প্রতি বছর রিনিউ করতে হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিনিউ না করলে জরিমানা দিতে হতে পারে।

ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কোথায় আবেদন করবেন?

আপনার ব্যবসার অবস্থানের উপর নির্ভর করে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জায়গা ভিন্ন হয়। বাংলাদেশে মূলত তিন ধরনের প্রশাসনিক এলাকায় লাইসেন্স দেওয়া হয়:

এলাকার ধরন লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা উদাহরণ
সিটি করপোরেশন এলাকা ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ, চট্টগ্রাম
পৌরসভা এলাকা জেলা/উপজেলা পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর পৌরসভা
গ্রাম/ইউনিয়ন এলাকা ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ অফিস

বর্তমানে বেশিরভাগ সিটি করপোরেশন অনলাইন সেবা চালু করেছে। তবে কিছু ইউনিয়ন পরিষদে এখনো সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হয়।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট: সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ

ট্রেড লাইসেন্স আবেদন করতে কিছু জরুরি কাগজপত্র লাগে। সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদে ডকুমেন্ট তালিকায় সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।

নতুন ট্রেড লাইসেন্স আবেদনের জন্য ডকুমেন্ট

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) – আবেদনকারীর স্ক্যান কপি বা ফটোকপি
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি – দুই কপি (সাম্প্রতিক)
  • ব্যবসার ঠিকানার প্রমাণ – হোল্ডিং ট্যাক্স রিসিট, ইউটিলিটি বিল বা ভাড়া চুক্তিপত্র
  • বাড়ির মালিকের NOC (যদি ভাড়া জায়গায় ব্যবসা হয়)
  • TIN সার্টিফিকেট (যদি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের নামে হয়)
  • ব্যবসার ধরন ও নাম উল্লেখ করা আবেদনপত্র
  • Trade License Form পূরণকৃত (অনলাইন বা অফলাইন)

ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়ের জন্য ডকুমেন্ট

  • পুরাতন ট্রেড লাইসেন্স নম্বর
  • NID কার্ড (হালনাগাদ)
  • সর্বশেষ ট্যাক্স পরিশোধের প্রমাণ (যদি প্রযোজ্য হয়)
  • ব্যবসার ঠিকানার হালনাগাদ প্রমাণ
  • মোবাইল নম্বর ও ইমেইল (অনলাইন রিনিউয়ের জন্য)

সব ডকুমেন্ট PDF বা JPG ফরম্যাটে স্ক্যান করে রাখুন। অনলাইন আবেদনে এই ফরম্যাটে ফাইল আপলোড করতে হয়। ফাইল সাইজ সাধারণত ২ MB এর মধ্যে রাখতে হয়।

ট্রেড লাইসেন্স অনলাইনে আবেদন করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স করার প্রধান পোর্টাল হলো etradelicense.gov.bd। এখানে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ অনেক এলাকার লাইসেন্স অনলাইনে করা যায়। নিচে বিস্তারিত প্রক্রিয়া দেওয়া হলো।

ধাপ ১: অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করুন

প্রথমে আপনাকে পোর্টালে একটি একাউন্ট খুলতে হবে। etradelicense.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে Register/Sign Up বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। মোবাইলে একটি OTP কোড আসবে, সেটি দিয়ে ভেরিফাই করুন। এরপর একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করুন এবং লগইন করুন।

ধাপ ২: নতুন আবেদন শুরু করুন

লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে "Apply for New Trade License" অপশনটি পাবেন। এখানে ক্লিক করুন। তারপর আপনার এলাকা নির্বাচন করুন – সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ। এলাকা অনুযায়ী ফর্ম আলাদা হবে।

ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন

এবার আবেদন ফর্মে সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। এখানে যা দিতে হবে:

  • আবেদনকারীর নাম (NID অনুযায়ী)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
  • মোবাইল নম্বর ও ইমেইল
  • ব্যবসার নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
  • ব্যবসার ধরন (খুচরা, পাইকারি, সেবা, উৎপাদন ইত্যাদি)
  • ব্যবসার ঠিকানা (ওয়ার্ড নম্বর, হোল্ডিং নম্বর সহ)
  • বার্ষিক আয়ের পরিমাণ (আনুমানিক)

সব তথ্য ভালোভাবে চেক করে নিন। ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

ধাপ ৪: ডকুমেন্ট আপলোড করুন

ফর্ম পূরণের পর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করার অপশন আসবে। এখানে আপনার NID, ছবি, ঠিকানার প্রমাণ, NOC ইত্যাদি PDF বা JPG ফরম্যাটে আপলোড করুন। ফাইল সাইজ ২ MB এর বেশি হলে compress করে নিন। সব ডকুমেন্ট আপলোড শেষ হলে Submit বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: ফি পেমেন্ট করুন

আবেদন সাবমিট করার পর লাইসেন্স ফি পরিশোধ করতে হবে। আপনি বিকাশ, নগদ, রকেট বা ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন। কিছু সিটি করপোরেশনে ব্যাংক ড্রাফট বা চালানের মাধ্যমেও ফি দেওয়া যায়। পেমেন্ট সফল হলে একটি Transaction ID পাবেন। সেটি সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ৬: আবেদন যাচাই ও অনুমোদন

পেমেন্টের পর আপনার আবেদন সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠানো হবে। সেখানে কর্মকর্তারা আপনার তথ্য ও ডকুমেন্ট যাচাই করবেন। কোনো সমস্যা থাকলে মোবাইলে বা ইমেইলে জানানো হবে। যাচাই সম্পন্ন হলে ৩ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়।

ধাপ ৭: ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করুন

লাইসেন্স ইস্যু হলে আপনার মোবাইলে SMS বা ইমেইলে নোটিফিকেশন আসবে। তখন পোর্টালে লগইন করে My Applications বা Download License সেকশনে গিয়ে আপনার ট্রেড লাইসেন্স PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করতে পারবেন। এটি প্রিন্ট করে নিয়ে ব্যবসায়ের জায়গায় টাঙিয়ে রাখুন।

ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করার অনলাইন প্রক্রিয়া

প্রতি বছর ট্রেড লাইসেন্স রিনিউ করা বাধ্যতামূলক। রিনিউ প্রক্রিয়া নতুন আবেদনের চেয়েও সহজ। চলুন দেখি কীভাবে করবেন।

ধাপ ১: পোর্টালে লগইন করুন

আগের মতোই etradelicense.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে Forgot Password অপশন ব্যবহার করুন।

ধাপ ২: রিনিউ অপশন নির্বাচন করুন

ড্যাশবোর্ডে "Renew Trade License" মেনুতে ক্লিক করুন। তারপর আপনার পুরাতন লাইসেন্স নম্বর দিন। সিস্টেম আপনার পুরনো তথ্য অটো লোড করবে।

ধাপ ৩: তথ্য আপডেট করুন

যদি ব্যবসার ঠিকানা, মোবাইল নম্বর বা কোনো তথ্য পরিবর্তন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো আপডেট করুন। না হলে পুরনো তথ্যই থাকবে।

ধাপ ৪: রিনিউ ফি পরিশোধ করুন

রিনিউ ফি সাধারণত নতুন লাইসেন্সের চেয়ে কম হয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হয়। বিকাশ, নগদ বা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করুন।

ধাপ ৫: রিনিউড লাইসেন্স ডাউনলোড করুন

পেমেন্ট সফল হলে রিনিউড লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বা ২-৩ দিনের মধ্যে ইস্যু হবে। তারপর ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিয়ে রাখুন।

ট্রেড লাইসেন্সের ফি কত? সম্পূর্ণ তালিকা

ট্রেড লাইসেন্স ফি নির্ভর করে ব্যবসার ধরন, আকার ও অবস্থানের উপর। সিটি করপোরেশনে ফি বেশি, ইউনিয়ন পরিষদে কম। নিচে একটি সাধারণ ধারণা দেওয়া হলো:

ব্যবসার ধরন সিটি করপোরেশন ফি ইউনিয়ন পরিষদ ফি
ছোট খুচরা দোকান ৫০০ - ১,৫০০ টাকা ২০০ - ৫০০ টাকা
মাঝারি ব্যবসা ২,০০০ - ৫,০০০ টাকা ৫০০ - ১,৫০০ টাকা
পাইকারি ব্যবসা ৫,০০০ - ১৫,০০০ টাকা ১,৫০০ - ৩,০০০ টাকা
রেস্তোরাঁ/হোটেল ৩,০০০ - ১০,০০০ টাকা ১,০০০ - ২,৫০০ টাকা
কারখানা/উৎপাদন ১০,০০০ - ৫০,০০০+ টাকা ৩,০০০ - ১০,০০০ টাকা
অনলাইন ব্যবসা ১,০০০ - ৩,০০০ টাকা ৫০০ - ১,৫০০ টাকা

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফি প্রতিবছর পরিবর্তন হতে পারে। সঠিক ফি জানতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েবসাইট চেক করুন বা হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

ট্রেড লাইসেন্স চেক ও যাচাই করার পদ্ধতি

অনেক সময় আমরা জানতে চাই আমাদের ট্রেড লাইসেন্স এখনো বৈধ আছে কিনা বা কোনো ব্যবসার লাইসেন্স সঠিক কিনা। এটি অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব।

অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স চেক করার নিয়ম

  • সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের ওয়েবসাইটে যান
  • "Trade License Verification" বা "e-Service" মেনু খুঁজুন
  • লাইসেন্স নম্বর বা NID নম্বর দিয়ে সার্চ করুন
  • লাইসেন্সের স্ট্যাটাস, মেয়াদ ও বৈধতা দেখুন

যদি অনলাইনে চেক করার সুবিধা না থাকে, তাহলে সরাসরি সিটি করপোরেশন অফিসে গিয়ে লাইসেন্স নম্বর দিয়ে যাচাই করতে পারবেন।

ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে কী হতে পারে?

অনেকে মনে করেন ছোট ব্যবসায় ট্রেড লাইসেন্স লাগে না। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা আইনত অবৈধ। এর ফলে যা হতে পারে:

  • জরিমানা: ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে
  • ব্যবসা বন্ধের নোটিশ: সিটি করপোরেশন ব্যবসা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে
  • আইনি জটিলতা: আদালতে মামলা হতে পারে
  • ব্যাংক লোন পাওয়া যায় না: কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া লোন দেয় না
  • সরকারি টেন্ডারে অংশ নিতে পারবেন না: কোনো সরকারি প্রকল্পে কাজ পাওয়া যাবে না

তাই ব্যবসা শুরুর সাথে সাথেই ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নেওয়া উচিত।

ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ টিপস

ট্রেড লাইসেন্স করার আগে ও পরে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। এতে আপনার সময়, টাকা ও ঝামেলা কমবে।

  • সঠিক তথ্য দিন: ফর্মে ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হবে
  • মেয়াদ মনে রাখুন: ক্যালেন্ডারে রিমাইন্ডার সেট করুন রিনিউয়ের তারিখের জন্য
  • সময়মত রিনিউ করুন: মেয়াদ শেষের আগেই রিনিউ করুন, নাহলে জরিমানা দিতে হবে
  • ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করুন: সব কাগজপত্রের কপি নিরাপদে রাখুন
  • পেমেন্ট রিসিট রাখুন: ফি পরিশোধের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন
  • হটলাইন নম্বর সংরক্ষণ করুন: সমস্যা হলে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবেন

বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের অনলাইন পোর্টাল লিংক

বাংলাদেশের প্রধান সিটি করপোরেশনগুলোর অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স সেবা:

  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: dncc.gov.bd
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: dscc.gov.bd
  • চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন: ccc.gov.bd
  • সিলেট সিটি করপোরেশন: sylhetcitycorporation.gov.bd
  • রাজশাহী সিটি করপোরেশন: rcc.gov.bd

অন্যান্য এলাকার জন্য স্থানীয় পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে যোগাযোগ করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ট্রেড লাইসেন্স করতে কত দিন সময় লাগে?

অনলাইনে আবেদন করলে সাধারণত ৩ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগে। তবে কিছু সিটি করপোরেশনে ২৪ ঘন্টার মধ্যেও লাইসেন্স ইস্যু হতে পারে। অফলাইনে আবেদন করলে ১০-১৫ দিন লাগতে পারে।

২. ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে কী শাস্তি হতে পারে?

লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করলে ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ এবং আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

৩. ট্রেড লাইসেন্স কি প্রতি বছর রিনিউ করতে হয়?

হ্যাঁ, প্রতি বছর রিনিউ করা বাধ্যতামূলক। লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত এক বছর এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা পরে রিনিউ করতে হয়।

৪. অনলাইন ব্যবসার জন্যও কি ট্রেড লাইসেন্স লাগে?

হ্যাঁ, অনলাইন ব্যবসার জন্যও ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। ই-কমার্স, ফেসবুক শপ বা যেকোনো ধরনের ডিজিটাল ব্যবসায়ের জন্য লাইসেন্স নিতে হয়।

৫. ট্রেড লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কী করব?

লাইসেন্স হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদে Duplicate Copy এর জন্য আবেদন করতে হবে। এতে সামান্য ফি লাগে (সাধারণত ১০০-৫০০ টাকা)।

৬. ট্রেড লাইসেন্স কি অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করা যায়?

যদি ব্যবসার ঠিকানা পরিবর্তন হয়, তাহলে নতুন ঠিকানায় নতুন লাইসেন্স নিতে হবে। পুরাতন লাইসেন্স অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করা যায় না।

৭. মোবাইল ব্যাংকিং দিয়ে ফি দিতে পারব?

হ্যাঁ, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং উপায় দিয়ে ফি পরিশোধ করা যায়। এছাড়া ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংও ব্যবহার করা যায়।

৮. ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?

বাংলাদেশে ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত এক বছর। কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ৬ মাসের লাইসেন্সও দেওয়া হয়।

শেষ কথা

ট্রেড লাইসেন্স শুধুমাত্র একটি কাগজ নয়, এটি আপনার ব্যবসার বৈধতার প্রমাণ। ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ও রিনিউ করা যায়। এতে সময়, অর্থ ও পরিশ্রম তিনটাই বাঁচে। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি স্ট্রাকচার এবং গুরুত্বপূর্ণ টিপস তুলে ধরেছি।

আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান বা পুরাতন লাইসেন্স রিনিউ করতে চান, তাহলে এই গাইড অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, সময়মত লাইসেন্স নেওয়া এবং রিনিউ করা আপনার ব্যবসার সুরক্ষা ও সাফল্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো সমস্যায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদের হটলাইনে যোগাযোগ করুন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য সহায়ক হয়েছে। আপনার ব্যবসা সফল হোক!

Shakil Hi, i am shakil