মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026? জানুন সর্বশেষ আপডেট ও নিয়ম

মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026? জেনে নিন সর্বশেষ আপডেট, নতুন কোটা, কোন কোন খাতে কর্মী নেওয়া হবে, যোগ্যতা, খরচ ও আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য।

Jun 26, 2026 - 23:40
 0  5
মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026? জানুন সর্বশেষ আপডেট ও নিয়ম

বাংলাদেশের লাখো চাকরিপ্রার্থীর চোখ এখন একটিমাত্র প্রশ্নের দিকে—মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026 সালে? দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে একের পর এক বৈঠক, যৌথ বিবৃতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। তবে অফিশিয়াল কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা না আসায় বিভ্রান্তিও কম নয়। এই প্রতিবেদনে কলিং ভিসা চালুর সর্বশেষ পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সময়সীমা, খরচ, যোগ্যতা ও কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে—সব কিছুর বিশ্লেষণধর্মী আপডেট তুলে ধরা হলো।

এক নজরে সর্বশেষ পরিস্থিতি

বর্তমান (২০২৬ সালের জুন) তথ্যানুযায়ী মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত একটি কাঠামো তৈরি করছে। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের ঘোষণা অনুযায়ী, সংশোধিত কলিং ভিসা পদ্ধতির আওতায় মোট প্রায় ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন বিদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ১৩টি নির্দিষ্ট উপ-খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুব শিগগিরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হবে।” সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশ মূলত একমত হয়েছে।

মালয়েশিয়া কলিং ভিসা কবে চালু হবে 2026—আসল উত্তর

এক কথায় বললে, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা পুনরায় চালুর কোনো অফিশিয়াল তারিখ এখনো ঘোষিত হয়নি। তবে কূটনৈতিক তৎপরতা, যৌথ বিবৃতি এবং মালয়েশিয়ার নিজস্ব কোটা ঘোষণার গতিপ্রকৃতি দেখে যা ধারণা করা যাচ্ছে—

  • চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে (চতুর্থ কোয়ার্টারে) কলিং ভিসা সীমিত আকারে চালুর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
  • প্রথমে নির্দিষ্ট কয়েকটি খাত যেমন কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও নির্মাণে অনুমোদন আসতে পারে।
  • পূর্ণাঙ্গ ও বড় পরিসরে নিয়োগ ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে গতি পেতে পারে।

মনে রাখা জরুরি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ এবং দুই দেশের যৌথ ঘোষণা মানেই “ভিসা খুলে গেছে” এমন নয়। ভিসা প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কেবল মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত নোটিফিকেশন দেওয়ার পর।

কেন এত দিন বন্ধ ছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার?

২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করে মালয়েশিয়া। মূল কারণগুলো ছিল—

  • কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ঋণ-নির্ভরতা এবং জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ
  • সিন্ডিকেট ভিত্তিক অতিরিক্ত খরচ আদায়
  • কর্মীদের সঠিক চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে ‘ভাসমান’ অবস্থায় ফেলে রাখা
  • বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শ্রমশক্তি তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত

এই কারণগুলোকে সামনে রেখেই নতুন কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কথা বলছে মালয়েশিয়া সরকার।

নতুন কাঠামোয় বড় কী কী পরিবর্তন আসছে

মালয়েশিয়ার ঘোষিত নতুন নিয়মে আগের চেয়ে অনেক বেশি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো হলো—

  • নিয়োগকর্তা বা তৃতীয় পক্ষের সরাসরি আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না।
  • শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধিত ‘সেক্টরাল এজেন্সি’ আবেদন জমা দিতে পারবে।
  • প্রতিটি আবেদন প্রথমে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিক্যাল কমিটির যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে যাবে।
  • চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদমন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিটি থেকে।
  • দীর্ঘমেয়াদে মোট কর্মশক্তিতে বিদেশি কর্মীর হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থাৎ আগের মতো “যে কেউ চাইলেই বিদেশি কর্মী আনতে পারবে”—এমন সুযোগ আর থাকছে না।

কোন কোন খাতে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

নতুন কাঠামোয় ১৩টি উপ-খাতে কর্মী নেওয়া হবে, যা প্রধান তিনটি বড় ক্যাটাগরিতে বিভক্ত—

কৃষি, প্ল্যান্টেশন ও খনি খাত: রাবার, পাম অয়েল, মৎস্য ও পাথর উত্তোলনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ।

সেবা খাত: পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, ওয়্যারহাউজিং, নিরাপত্তা সেবা, স্ক্র্যাপ মেটাল, রেস্টুরেন্ট, লন্ড্রি, কার্গো হ্যান্ডলিং এবং বিল্ডিং ক্লিনিং।

নির্মাণ ও উৎপাদন খাত: শুধু সরকারি প্রকল্প এবং মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (MIDA) অনুমোদিত নতুন বিনিয়োগের আওতায় থাকা কোম্পানিগুলো কর্মী নিতে পারবে।

বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বেশি সুযোগ থাকতে পারে কনস্ট্রাকশন, প্ল্যান্টেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে।

আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্ত

কলিং ভিসা পুনরায় চালু হলে যেসব শর্ত প্রায় নিশ্চিতভাবে থাকবে—

  • বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
  • বৈধ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, যার মেয়াদ কমপক্ষে দেড় থেকে দুই বছর থাকতে হবে।
  • সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে ফিট সনদ।
  • যক্ষ্মা, হেপাটাইটিসসহ কোনো ছোঁয়াচে রোগ থাকলে আনফিট ঘোষণা হতে পারে।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন ও পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড।
  • বিএমইটি (Bureau of Manpower, Employment and Training) নিবন্ধন এবং সরকার নির্ধারিত প্রি-ডিপার্চার প্রশিক্ষণ।

প্রযুক্তিগত বা দক্ষ পদে যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা সনদ বা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সার্টিফিকেট অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে কাজ করবে।

অভিবাসন ব্যয় কত হতে পারে

দুই দেশের সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—অভিবাসন ব্যয় কমানো হবে। মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ‘জিরো কস্ট রিক্রুটমেন্ট’ নীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে কর্মী থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না বললেই চলে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও সিন্ডিকেট ভেঙে সাশ্রয়ী খরচে কর্মী পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

তবে বাস্তবে বিমান ভাড়া, মেডিকেল, প্রশিক্ষণ, ভিসা ফিসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে অভিজ্ঞতা বলছে—সরকারি অনুমোদিত পথে অভিবাসন ব্যয় সাধারণত দেড় থেকে দুই লাখ টাকার আশপাশে থাকতে পারে। নির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত অঙ্ক জানা যাবে নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর।

সতর্কবার্তা: কোনো এজেন্ট, দালাল বা ব্যক্তি যদি ৪–৫ লাখ টাকা বা তার বেশি দাবি করে, ধরে নিতে হবে সেখানে প্রতারণার ঝুঁকি আছে। অগ্রিম মোটা অঙ্কের টাকা না দিয়ে অবশ্যই বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।

প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে

পূর্ণাঙ্গ ভিসা চালুর পর সম্ভাব্য ধাপগুলো এমন হবে—

প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তা চাহিদা অনুযায়ী ডিমান্ড লেটার ইস্যু করবেন, যা মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দূতাবাস কর্তৃক যাচাই করা হবে। এরপর বাংলাদেশের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য মেডিকেল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ভিসা স্ট্যাম্পিং, প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিং শেষে বিমান টিকিট নিশ্চিত হলে যাত্রার অনুমোদন মিলবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকভাবে ছয় থেকে বারো সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, যদি কোনো জটিলতা না থাকে।

প্রবাসী কর্মীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, কলিং ভিসা সংক্রান্ত গুজব ও প্রতারণার শিকার হন অনেকেই। তাই আগেভাগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার—

  • সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া কাউকে অগ্রিম টাকা দেবেন না।
  • বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ছাড়া কোনো অবস্থাতেই মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।
  • চুক্তিপত্র (Employment Contract) ভালোভাবে পড়ে স্বাক্ষর করুন—বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি, থাকা-খাওয়ার শর্ত যাচাই করুন।
  • যেকোনো এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পরীক্ষা করে নিন।
  • পরিচিত কেউ বলছে বলেই বিশ্বাস না করে কাগজে-কলমে সবকিছু দেখুন।

কখন বুঝবেন কলিং ভিসা সত্যিই খুলেছে

সত্যিকার অর্থে কলিং ভিসা চালু হলে তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখা যাবে—প্রথমত, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় কোটার পরিমাণ ও দেশভিত্তিক বরাদ্দ ঘোষণা করবে; দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সরকার বিএমইটির মাধ্যমে অনুমোদিত এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করবে; এবং তৃতীয়ত, ডিমান্ড লেটার যাচাই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এই তিনটি ধাপের আগে আসা যেকোনো ‘ব্রেকিং নিউজ’ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত।

শেষ কথা

মালয়েশিয়া কলিং ভিসা ২০২৬ ঘিরে অপেক্ষা যেমন বাড়ছে, তেমনি গুজব ও বিভ্রান্তিও ছড়াচ্ছে। বাস্তবতা হলো—দুই দেশের সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি সিরিয়াসভাবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর পথে এগোচ্ছে, খরচ কমানো এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও এসেছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ ও কোটার ঘোষণা আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

যারা মালয়েশিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, এখনই করণীয় হলো—পাসপোর্ট হালনাগাদ করা, প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং নির্ভরযোগ্য, লাইসেন্সধারী এজেন্সির সাথে যোগাযোগ রাখা। দালালের প্রলোভনে পা না দিয়ে সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখলেই নিরাপদ অভিবাসনের পথ সবচেয়ে সহজ হবে। আমরা নিয়মিত এই বিষয়ের সর্বশেষ আপডেট নিয়ে হাজির হবো, তাই চোখ রাখুন আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।

Shakil হ্যালো "ট্রিকবিডি" বাসী আমি শাকিল আহাম্মেদ। দীর্ঘদিন থেকে অনলাইনে লেখালেখির পেশায় যুক্ত আছি। TrickBD আমার নিজের হাতে তৈরি করা একটি ওয়েবসাইট। এখানে আমি প্রতিনিয়ত ব্লগিং, ইউটিউবিং ও প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টিপস এন্ড ট্রিক্স রিলেটেড আর্টিকেল প্রকাশ করে থাকি।