তারাবির নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া: রমজানের বিশেষ আমল

পবিত্র রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত তারাবির নামাজের সম্পূর্ণ নিয়ম, সঠিক নিয়ত এবং দোয়া সহজ ভাষায় জানুন। এই আর্টিকেলে রয়েছে ধাপে ধাপে গাইড, টেবিল চার্ট এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য যা মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।

Feb 19, 2026 - 23:38
 0  8
তারাবির নামাজের নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া: রমজানের বিশেষ আমল

তারাবির নামাজ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত এবং মাগফিরাতের মাস। এই মাসের রাতের বেলায় তারাবির নামাজ আদায় করা একটি বিশেষ সুন্নত ইবাদত, যা এশার নামাজের পর এবং বিতরের নামাজের আগে পড়া হয়। "তারাবিহ" শব্দটি আরবি "তারবিহাহ" থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বিশ্রাম নেওয়া বা প্রশান্তি লাভ করা। এই নামাজে প্রতি চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নেওয়া হয় বলে একে Taraweeh Prayer বা তারাবির নামাজ বলা হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই নামাজকে খুবই গুরুত্ব দিয়েছেন এবং নিজেও নিয়মিত আদায় করেছেন। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবে (তারাবি), তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।" (বুখারী ও মুসলিম) তাই প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর জন্য এই নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

তারাবির নামাজের নিয়ত: বাংলা ও আরবিতে

যেকোনো ইবাদতের ভিত্তি হলো নিয়ত (Niyyah) বা মনের সংকল্প। তারাবির নামাজ শুরু করার আগে অবশ্যই আন্তরিকভাবে নিয়ত করতে হবে। নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে মুখে বলা মুস্তাহাব বা উত্তম কাজ হিসেবে গণ্য। আপনি চাইলে বাংলায় বা আরবিতে নিয়ত করতে পারেন।

বাংলায় তারাবির নামাজের নিয়ত

"আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তারাবির দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।"

দ্রষ্টব্য: যদি আপনি মসজিদে জামাতে ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন, তাহলে নিয়তের সাথে যুক্ত করবেন—"এই ইমামের পেছনে…।"

আরবিতে তারাবির নামাজের নিয়ত (উচ্চারণসহ)

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবিহ, সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা'আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তারাবির দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি, যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত, কেবলার দিকে মুখ করে। আল্লাহু আকবার।

তারাবির নামাজের নিয়ম: ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ গাইড

বাংলাদেশসহ পুরো উপমহাদেশে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী মোট ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা হয়, যা দুই রাকাত করে মোট দশ সালামে পড়া হয়। নিচে সঠিক ও সহজভাবে Taraweeh Namaz er Niyom বর্ণনা করা হলো:

ধাপ ১: প্রস্তুতি ও ওয়াক্ত নির্ধারণ: প্রথমে এশার ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করুন। এরপর তারাবির নামাজ শুরু করুন। বিতরের নামাজ তারাবির পরে পড়া উত্তম।

ধাপ ২: দুই রাকাত করে আদায়: অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামাজের মতো দুই রাকাত করে তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে। প্রতি দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়ে আবার দাঁড়িয়ে পরবর্তী দুই রাকাত শুরু করতে হবে।

ধাপ ৩: কিরাআত বা তিলাওয়াত: যদি আপনি জামাতে ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন, তাহলে ইমাম সাহেব কোরআন তিলাওয়াত করবেন এবং আপনি মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আর যদি একাকী ঘরে পড়েন, তাহলে সূরা ফাতিহার সাথে যেকোনো সূরা মিলিয়ে পড়বেন।

ধাপ ৪: চার রাকাত পর বিশ্রাম ও দোয়া: প্রতি চার রাকাত (অর্থাৎ দুই সালাম) শেষে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়া সুন্নত। এই সময় তারাবির দোয়া পড়া হয়। যদি মুখস্থ না থাকে তাহলে "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "আল্লাহু আকবার" অথবা দরুদ শরীফ পড়তে পারেন।

ধাপ ৫: বিশ রাকাত পূর্ণ করা: এভাবে দুই রাকাত করে মোট দশ সালামে ২০ রাকাত নামাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর বিশ্রাম নিতে হয়, অর্থাৎ মোট পাঁচবার বিশ্রাম নেওয়া হয়।

ধাপ ৬: মোনাজাত ও বিতর: ২০ রাকাত তারাবির নামাজ শেষ হলে সকলে মিলে অথবা একাকী তারাবির মোনাজাত করা হয়। এরপর তিন রাকাত বিতরের নামাজ আদায় করে রাতের ইবাদত সমাপ্ত করতে হয়।

ধাপ কাজ বিস্তারিত
প্রস্তুতি এশার ফরজ ও সুন্নত শেষ করা
নিয়ত করা মনে মনে বা মুখে তারাবির নিয়ত
দুই রাকাত করে পড়া মোট ১০ সালামে ২০ রাকাত
চার রাকাত পর বিশ্রাম তারাবির দোয়া বা জিকির পাঠ
মোনাজাত ২০ রাকাত শেষে দোয়া করা
বিতর নামাজ তিন রাকাত বিতর আদায় করা

তারাবির দোয়া: আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

প্রতি চার রাকাত তারাবির নামাজের পর পর যে দোয়া পড়া হয়, সেটিকেই তারাবির দোয়া (Tarawih er Dua) বলা হয়। এই দোয়া পড়া সুন্নাত, তবে এটি মুখস্থ না থাকলে অন্যান্য তাসবিহ, দরুদ শরীফ অথবা ইস্তিগফার পড়লেও কোনো সমস্যা নেই। নিচে দোয়াটির সম্পূর্ণ রূপ দেওয়া হলো:

তারাবির দোয়া (বাংলা উচ্চারণ)

"সুবহানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হাইল্লাযি লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু, আবাদান আবাদা, সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ।"

তারাবির দোয়ার অর্থ

অর্থ: "পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি সকল রাজত্ব ও আধিপত্যের মালিক। পবিত্র সেই মহান সত্তা যিনি সম্মান, মহিমা, জাঁকজমক, ক্ষমতা, বড়ত্ব এবং শক্তির অধিকারী। পবিত্র সেই চিরঞ্জীব বাদশাহ যিনি নিদ্রা যান না এবং মৃত্যুবরণও করেন না। চিরকাল তিনি পবিত্র এবং সকল পবিত্রতার উৎস। তিনিই আমাদের রব এবং ফেরেশতাদের ও রূহসমূহের রব।"

তারাবির মোনাজাত (২০ রাকাত শেষে)

নামাজ শেষে আমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চেয়ে মোনাজাত করি। নিচে মোনাজাতের উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো:

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান নারি। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নারি, বিরাহমাতিকা ইয়া আযিযু, ইয়া গাফফারু, ইয়া কারিমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু, ইয়া জাব্বারু, ইয়া খালিকু, ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নারি; ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করি এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই। হে জান্নাত ও জাহান্নামের স্রষ্টা! আপনার রহমতের দোহাই, হে পরাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে মহানুভব, হে গোপনকারী, হে দয়ালু, হে মহাশক্তিধর, হে সৃষ্টিকর্তা, হে কল্যাণকারী। হে আল্লাহ! আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন; হে রক্ষাকর্তা, হে রক্ষাকর্তা, হে রক্ষাকর্তা। আপনার রহমতের উসিলায়, হে সবচেয়ে দয়ালুদের দয়ালু।"

তারাবির নামাজের গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল ও বিশেষ তথ্য

কত রাকাত তারাবি পড়া সুন্নত? বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষসহ বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে হানাফি মাজহাব অনুযায়ী ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। মক্কা ও মদিনার হারামাইন শরীফেও বর্তমানে ২০ রাকাত পড়া হয়। তবে কেউ যদি শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ কারণে ৮ রাকাত পড়েন, সেটাও হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত এবং জায়েজ। মূল লক্ষ্য হলো একাগ্রতা ও বিনয়ের সাথে আল্লাহর ইবাদত করা।

মহিলারা কীভাবে তারাবি পড়বেন? মহিলাদের জন্য নিজ ঘরে একাকী তারাবির নামাজ পড়া উত্তম এবং বেশি সওয়াবের কাজ। তারা পুরুষদের মতোই দুই রাকাত করে Taraweeh Prayer আদায় করবেন। যদি কোনো মহিলা মসজিদে যেতে চান, তাহলে পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে যেতে পারবেন।

তারাবিতে কি পুরো কোরআন খতম করতে হবে? মসজিদে সাধারণত খতম তারাবি হয়, অর্থাৎ রমজান মাসের ২৯ বা ৩০ দিনে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ একবার তিলাওয়াত করা হয়। তবে যারা একাকী পড়েন, তারা সূরা তারাবি পড়তে পারেন, অর্থাৎ মুখস্থ ছোট ছোট সূরা দিয়েও তারাবি আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ। কোরআনের যেকোনো অংশ থেকেই তিলাওয়াত করা যায়।

এশার আগে কি তারাবি পড়া যায়? না, তারাবির নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর। এশার আগে পড়লে তা তারাবি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। অবশ্য কেউ যদি মুসাফির বা অসুস্থ হওয়ার কারণে এশা কসর পড়েন, তাহলেও তারাবি পড়তে পারবেন।

বিষয় বিস্তারিত তথ্য
তারাবির রাকাত সংখ্যা ২০ রাকাত (হানাফি মাজহাব) / ৮ রাকাতও বৈধ
নামাজের ওয়াক্ত এশার ফরজ ও সুন্নতের পর, বিতরের আগে
প্রতি সালামে রাকাত দুই রাকাত করে (মোট ১০ সালাম)
বিশ্রামের সংখ্যা পাঁচবার (প্রতি চার রাকাত পর পর)
মহিলাদের জন্য ঘরে পড়া উত্তম, মসজিদেও যেতে পারবেন
কিরাআত যেকোনো সূরা, খতম বা সূরা তারাবি
দোয়া চার রাকাত পর তারাবির দোয়া (মুস্তাহাব)
জামাত জামাতে পড়া উত্তম, একাকীও পড়া যায়

তারাবির নামাজ সম্পর্কিত FAQ (Frequently Asked Questions)

১. তারাবির নামাজ কত রাকাত এবং কীভাবে পড়তে হয়?

উত্তর: বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা হয়, যা দুই রাকাত করে মোট দশ সালামে পড়া হয়। প্রতি চার রাকাত পর পর একটু বিশ্রাম নিয়ে তারাবির দোয়া পড়া সুন্নত। তবে শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ কারণে ৮ রাকাত পড়াও বৈধ।

২. তারাবির নামাজের নিয়ত কীভাবে করবো?

উত্তর: তারাবির নামাজের নিয়ত মনে মনে বা মুখে করা যায়। বাংলায় বলতে পারেন: "আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তারাবির দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি।" জামাতে পড়লে "এই ইমামের পেছনে" কথাটি যুক্ত করবেন।

৩. এশার নামাজের আগে কি তারাবি পড়া যায়?

উত্তর: না, তারাবির নামাজের ওয়াক্ত এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর শুরু হয়। এশার আগে পড়লে তা তারাবি হিসেবে গণ্য হবে না। অবশ্যই এশার নামাজ সম্পন্ন করার পরই তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে।

৪. মহিলারা কি ঘরে তারাবির নামাজ পড়তে পারবেন?

উত্তর: হ্যাঁ, মহিলাদের জন্য নিজ ঘরে একাকী তারাবির নামাজ আদায় করা সবচেয়ে উত্তম এবং বেশি সওয়াবের কাজ। তারা পুরুষদের মতোই সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে দুই রাকাত করে ২০ রাকাত নামাজ পড়বেন। তবে চাইলে পর্দা রক্ষা করে মসজিদেও যেতে পারবেন।

৫. তারাবিতে কোন সূরা পড়তে হয়?

উত্তর: তারাবিতে কোনো নির্দিষ্ট সূরা পড়ার বাধ্যবাধকতা নেই। কোরআনের যেকোনো অংশ থেকে তিলাওয়াত করা যায়। মসজিদে সাধারণত খতম তারাবি হয়, অর্থাৎ পুরো কোরআন একবার শেষ করা হয়। আর যারা একাকী পড়েন, তারা সূরা তারাবি পড়তে পারেন, অর্থাৎ মুখস্থ ছোট সূরা দিয়ে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ।

৬. চার রাকাত পর পর তারাবির দোয়া না পড়লে কি নামাজ হবে না?

উত্তর: হ্যাঁ, নামাজ অবশ্যই হবে। তারাবির দোয়া পড়া মুস্তাহাব বা উত্তম কাজ, বাধ্যতামূলক নয়। যদি দোয়া মুখস্থ না থাকে, তাহলে চুপ করে বসে থাকতে পারেন অথবা "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ", "আল্লাহু আকবার", দরুদ শরীফ বা ইস্তিগফার পড়তে পারেন।

৭. তারাবির নামাজ একা একা পড়া যায় কি?

উত্তর: হ্যাঁ, তারাবির নামাজ একাকী ঘরে বসেও পড়া যায়। তবে জামাতে মসজিদে পড়া বেশি সওয়াবের। যারা কোনো কারণে মসজিদে যেতে পারেন না, তারা ঘরে একাকী দুই রাকাত করে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে তারাবি আদায় করবেন।

৮. রমজানের কোন রাতে তারাবির নামাজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তর: রমজানের প্রতিটি রাতেই তারাবির নামাজ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ তারিখ) বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই রাতগুলোর মধ্যে লাইলাতুল কদর (শবে কদর) রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এই রাতগুলোতে তারাবিসহ বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।

উপসংহার: তারাবির নামাজে নিয়মিত থাকুন

পবিত্র রমজান মাস একজন মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময় সময়। তারাবির নামাজ এই মাসের একটি বিশেষ আমল, যা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে এবং গুনাহ মাফের উসিলা হয়। সঠিক নিয়ত, নিয়ম ও দোয়া জেনে নিয়মিত এই নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এই আর্টিকেলে আমরা তারাবির নামাজের সম্পূর্ণ নিয়মকানুন, বাংলা ও আরবিতে নিয়ত, দোয়া, মোনাজাত এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসায়েল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার Ramadan Taraweeh Prayer আদায়ে সহায়ক হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের আমল কবুল করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

আরও পড়ুন: রমজান মাসের ফজিলত, রোজার নিয়ত ও দোয়া, ইফতার ও সেহরির সময়সূচি এবং লাইলাতুল কদরের আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের অন্যান্য আর্টিকেল পড়ুন।

Disclaimer: এই আর্টিকেলটি সাধারণ ধর্মীয় জ্ঞান এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামিক স্কলারদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ কোনো মাসয়ালার ক্ষেত্রে আপনার স্থানীয় আলেম বা ইসলামিক স্কলারের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

Shakil Hi, i am shakil